জাতীয় সংলাপের ঘোষণাপত্র

গণহত্যার বিচার আগামী বিজয় দিবসের আগেই নিষ্পত্তির দাবি

‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শিরোনামে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (এফবিএস) এর উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী জাতীয় সংলাপে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে জুলাই অভ্যুত্থানে সংগঠিত গণহত্যার বিচার আগামী বছরের বিজয় দিবসের আগেই নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয় । এজন্য প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা এবং পরিধি বৃদ্ধিরও পরামর্শ য়ো হয়। এছাড়া বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করারও দাবি জানানো হয়।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস-বিজ্ঞপ্তিতে সংলাপের এই ঘোষণাপত্র পাঠানো হয়।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, সংলাপে অংশগ্রহণকারী সকলেই একমত পোষণ করেন যে, আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, অবৈধ সরকারের মন্ত্রী, এমপি, তাদের স্বজন ও ফ্যাসিবাদের রক্ষক আমলা, সাংবাদিক, বিচারক এবং কথিত বুদ্ধিজীবীদের দুর্নীতি ও লুটপাটের যথাযথ তদন্ত এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এমনকি বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকায় এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক দুর্নীতিদমন বিশেষ আদালত স্থাপন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ টিম নিয়োগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। 

জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা। এতে যৌক্তিক সংস্কারকে কোনো মতেই পাশ না কাটানো এবং একইসঙ্গে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দেয়ার বিষয়েও জোরালো আলোচনা হয়েছে।

এতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অংশ নেয়া রাজনৈতিক ল ও পক্ষগুলো সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেরে মধ্যে ঐক্য বজায় রাখবে এবং সংস্কারসহ নির্বাচনের যাত্রাপথের সকল কর্মকাণ্ড নূন্যতম ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সম্পন্ন করবে। এসব পক্ষসমূহের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি লিয়াঁজো কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা সরকারী প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এখনও বহাল ফাকা ফ্যাসিস্ট শাসকের সমর্থকদের অবিলম্বে সরিয়ে দেয়া এবং বিগত ১৬ বছরে যারা অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় পদন্নোতিসহ পুনর্বহাল এবং যথাযথ জায়গায় নিয়োগ ও পলায়নের দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় সংলাপে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে গণঅভূত্থানে আহতরে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে এবং শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

এই সংলাপে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে য, গণহত্যার দায়ে সংগঠন নিষিদ্ধের যে ক্ষমতা আদালতের রয়েছে তা প্রশাসনিক কর্তৃত্বের মধ্যে নেয়া সঠিক এবং যথাযথ হবে না। সাম্প্রতিককালে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের হুমকি ও বিশৃঙ্খল আচরণ সরকারি চাকরি বিধির শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে অভিমত ব্যক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংলাপ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। দুদিনের এই সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সব রকম নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, কল্যাণমুলক এবং ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিকদলগুলো দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে । বাংলাদেশের সার্বিক সমৃদ্ধি এবং নাগরিকরে নিরাপদ ও শান্তিময় জীবনের জন্য সভ্য রাজনীতির আকুতি জানিয়ে এই সংলাপ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন" শিরোনামে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (এফবিএস) এর উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী জাতীয় সংলাপ গত ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও শক্তি, বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠন ও গ্রুপ এবং নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।