২০২৪ সালে গণপিটুনিতে নিহত ১২৮ জন

২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গণপিটুনির ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।  

প্রতিবেদন অনুসারে, বিভাগভিত্তিক নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নিহত হন।  

আসকের প্রতিবেদন জানায়, ২০২৪ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কিছুটা কমলেও এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ ধরনের ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালেই ১২ জনের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ৬ জন শারীরিক নির্যাতনে এবং ৩ জন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।  

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে ২০২৪ সালে মোট ৮৫৮ জন নিহত এবং ১১,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২৯ জন শিশু-কিশোর এবং ১১ জন নারী রয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বাসায় গুলিতে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা মর্মান্তিক।  

২০২৪ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১৪৭টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৪০৮টি বাড়িঘর ভাঙচুর, ৩৬টি অগ্নিসংযোগ এবং ১১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। মন্দির ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদেও ৩২টি হামলা এবং ৯২টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩ জন এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১ জন নাগরিক নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৮২ জন।  

সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও এ বছর ঘটেছে। বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই তংগোঝিরি এলাকায় দুর্বৃত্তদের চাঁদা দাবির পর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।  

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনায় সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।