চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাবর্ষের বই পায়নি। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে নতুন বই নিতে এসে তারা বাড়ি ফিরেছেন খালি হাতে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন বছরের প্রথম দিনে ১০ম শ্রেণির ১৩টি বইয়ের মধ্যে ৩টি এবং ৮ম শ্রেণির ১০টি বইয়ের মধ্যে ২টি দিতে পারবে বলে জানান। কিন্তু এ খবর শিক্ষার্থীরা না জানার কারণে তারা বছরের প্রথম দিনে স্কুলে ছুটে আসে। কিন্তু এ সময় বন্টন ও বরাদ্দ না হওয়ার কারণে বইগুলো প্রথম দিনই বিতরণ সম্ভব নয় বলে জাননো হয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এরপর শিক্ষার্থীরা খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, মতলব উত্তর উপজেলায় হাই স্কুল পর্যায়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে ৮ম ও ১০ম শ্রেণির ১০ হাজার ২৩২ জন দুই থেকে তিন বিষয়ের বই হাতে পেলেও ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৯ম শ্রেণি ১৬ হাজার ৫৫৫জন শিক্ষার্থী কোনো বই পায়নি। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বই প্রয়োজন ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮৮টি কিন্তু শিক্ষার্থীদের বই দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ১৬৪টি। ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২২৪ টি বই পায়নি শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে দাখিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪ হাজার ২৬৯জন। বই পেয়েছে ১ হাজার ৬৯৪ শিক্ষর্থী । কোনো বই পায়নি ২ হাজার ৫৭৫ জন শিক্ষার্থী। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বই প্রয়োজন ৫৯ হাজার ৬০৬টি । দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৮২টি বই। প্রাথমিক স্তরে ৪২ হাজার ২৮৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পেয়েছে ১ম শ্রেণি, ২য় ও ৩য় শ্রেণির ২১ হাজার ৩৪৭জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে শিশু শ্রেণি, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ২০ হাজার ৯৩৬ শিক্ষার্থী কোনো বই পায়নি। ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৪২টি বইয়ের বিপরীতে বই বিতরণ করা হয়েছে ৮৫ হাজার ১১০টি। একইভাবে ৩ হাজার ২১৬জন ইবতেদায়ীর পাঁচটি শ্রেণিতে ৩ হাজার ২১৬ শিক্ষার্থী কোনো বই পায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম বলেন, কত বই পাবো তা আমাদের আগাম জানানো হয়নি। গত ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ৮ম শ্রেণির ২টি করে আর ১০ম শ্রেণির ৩টি করে বই পাই, যা দ্রুত স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত পেয়ে যাবো বলে আশা করছি।