নিখোঁজের পরদিন মাঠে পড়েছিল যুবদল নেতার গলাকাঁটা মরদেহ

মেহেরপুরের গাংনীতে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আলমগীর হোসেন (৩২) নামে এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সহড়াবাড়িয়া কামারখালী মাঠে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।

নিহত আলমগীর হোসেন (৩৪) গাংনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি উপজেলার বাঁশাবড়ায়ী গ্রামের মইনুদ্দীন শেখের ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে আসেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহড়াবাড়ীয়া-কামারখালী মাঠের মধ্যে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশের সন্ধান পান স্থানীয়রা। পরে তার স্বজনরা গিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত রয়েছে। এছাড়াও গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশের পাশ থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে অজ্ঞাত এক নারীর বরাতে লেখা- ‘৫ বছর পরকীয়া প্রেম আর শারীরিক সম্পর্ক করে বিয়ে না করার প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ তবে প্রকৃত ঘটনা পরকীয়া না হত্যাকাণ্ড কিংবা বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এই চিরকুট তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

নিহত ব্যক্তির আরেক ভাই আলামিন হোসেন বলেন, দুই মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসেন আলমগীর। দীর্ঘদিন স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের ভয়ে সে বিদেশে ছিল। দেশ স্বাধীন (জুলাই গণ–অভ্যুত্থান) হলে সে ফিরে আসে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ কারা তাকে হত্যা করল বুঝতে পারছি না।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানি ইসরাইল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং হতাকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।