কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অভিযানেও থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমির মাটি কাটা। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নদীর বালু কাটছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এসব বালু ও মাটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে যানা যায়, রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচরসহ বেস কয়েকটি স্পটে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি। কিন্তু তারপরও কোনোভাবেই উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে চর ও ফসলি জমি কেটে বিক্রি ও বালু উত্তোলন থামছে না। অবৈধ বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েক বার মানববন্ধনও হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রহ্মপুত্র নদীপাড়ের একাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই চলছে বালুকাটা। নদীর পাড় ও ফসলি জমি থেকে শ্রমিক ও বেকু মেশিন দিয়ে সরাসরি বালু ও কৃষি জমির মাটি কেটে শত শত ট্রাক্টর (কাকড়া গাড়ি) দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নদীর বালু কাটছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক জন বালু ব্যবসায়ী। এই এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কেউ বাধা দিলে তাকে মারধর, হুমকিসহ নানান রকম বিপদের শিকার হতে হয়।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ফসলি জমি ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি, নদী পাড়ের বসতঘর ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীতে ভেঙে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধ করতে ব্যবহৃত কোটি
কোটি টাকার ব্লক ও জিও ব্যাগ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এসব বালু ও মাটি পরিবহনে প্রতিদিন ভারী ইঞ্জিনচালিত যান চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুতগতির গাড়ি চলাচলের কারণে ধুলাবালু নাকে গিয়ে স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়ে ও বয়স্করা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
বন্দবেড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন (ফরিদ) বলেন, ফলুয়ারচর বালু উত্তোলন কারী এবং বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিক্যাডটি খুবই শক্তিশালি। কোনো ক্রমেই তাদেরকে দমন করা যাচ্ছে না। তারা প্রশাসনের কোনো বাঁধাই মানছে না। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে আগামী বন্যায় ফুলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে রাস্তা ঘাটে উন্মুক্তভাবে বালি-মাটি পরিবহন করায় শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে, বিশেষ করে শিশুরা শ্বাসকষ্ট রোগে বেশি ভুগছে। পলিথিন কাগজ দিয়ে ঢেকে ট্রাক্টরে বালি মাটি পরিবহন করা প্রয়োজন।
রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।