গণপিটুনিতে নিহত ডাকাত: গ্রামবাসীর ওপর হামলা ডাকাতের অনুসারীদের

দিন দুয়েক আগে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হন মুকুল। মুকুল হত্যার প্রতিশোধ নিতে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে তার অনুসারীরা। ভেঙেছে ঘরবাড়ি, লুট করেছে দোকান। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে।

গণপিটুনিতে নিহত মুকুল আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য। রোববার বিকেলের দিকে তার অনুসারীরা উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের জোগারদিয়া এলাকায় অতর্কিতভাবে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর বাড়িঘরে হামলা শুরু করে। এ সময় ওই গ্রামের রেজাউল করিমের বসতবাড়ি ও টেক্সটাইল মিলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রায় তিন আখ টাকা মালামাল ক্ষতিসাধন হয় বলে রেজাউল দাবি করেন। এছাড়াও ওই গ্রামের হিমেল মিয়া, আবু সিদ্দীক ও সোহেল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার মধ্যরাতে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতদল জোগারদিয়া চকে স্থানীয় এক সেচ পাম্পের ড্রেনের উপর বসে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় ৪-৫ শত স্থানীয় লোকজন ডাকাতদলকে ঘেরাও করে। ৭-৮ জন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ডাকাত মুকুলকে আটক করে উত্তেজিত গ্রামবাসী গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে সে নিহত হয়। এর জের ধরে নিহত মুকুলের অনুসারীরা এ হামলা চালায়। 

থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, নিহত মুকুলের বিরুদ্ধে আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন থানায় ৪টি ডাকাতি ও একটি বিশেষ আইনে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই গ্রামে গ্রুপিং থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা ব্যবস্থা নিব।