সাঁওতালদের মারধরের ঘটনায় সেই বিএনপি নেতা রফিকুল বহিষ্কার

সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি।

রোববার (৫ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ জানানো হয়।

এর আগে, শনিবার রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারপিট এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হইল। বহিষ্কৃত নেতার কোনো কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের দায়-দায়িত্ব সংগঠন বহন করবে না। সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হইল।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক জানান, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজা বিরাট বরট্ট সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা মৃত সুন্দর সরেন মণ্ডলের দুই ছেলে বৃটিশ সরেন ও শৈলেন সরেনের সাথে রাজাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে জমি ও পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজনসহ সুন্দর সরেন মণ্ডলের বাড়িতে হামলা করে। তারা জমি ও পুকুরের দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য বৃটিশ সরেন ও শৈলেন সরেনকে চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজী না হলে তারা বৃটিশ সরেন, শৈলেন সরেন ও তাদের মা ফিলোমিনা হাসদাকে মারপিট করে। পরে শুক্রবার গভীর রাতে চেয়ারম্যান রফিকুলের লোকজন বৃটিশ সরেন ও তার ভাই শৈলেশ সরেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

মারপিট ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, ক্রয় সূত্রে তিনি এই জমির মালিক। শুক্রবার সকালে তার লোকজন ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে যায়। এ সময় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন বাঁধা দেয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে বৃটিশ সরেন ও তার লোকজন তাকে লাঞ্ছিত করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, এ মামলায় রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে এজাহারনামীয় ছয় জন ও অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।