ঈশ্বরদীতে শিম চাষে বেড়েছে কীটনাশকের ব্যবহার

প্রায় ৩০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে পাবনার ঈশ্বরদীতে শিমের আবাদ হচ্ছে। উপজলার মূলাডুলি ইউনিয়নে শিমের আবাদ বেশি হয়। শিমের মৌসুমে এসব এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়ায় কীটনাশকের গন্ধ। এতে দিনদিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি। 

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় এবার ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। সবচেয়ে বেশি রূপবান, কেরালা, অটো, চকোলেট, ঘৃতকাঞ্চন জাতের আবাদ হয়েছে। এগুলোর বাইরেও দেশীয় বেশ কিছু জাতের শিমের চাষ হয় এ অঞ্চলে। শিম চাষে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার হয়। বিশেষ করে পোকামাকড় দমনে এবং ছত্রাকনাশক বা পচনরোধে। 

এছাড়াও ফলন বৃদ্ধির জন্য গাছের ওপরে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা কৃষকদের কাছে ভিটামিন নামে পরিচিত। শিমের ফুল ও কচি শিমের জাবপোকা দমন করতে সপ্তাহের পাঁচ দিন কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। পোকার আক্রমণ বেশি হওয়ায় কোনো কোনো জমিতে দিনে দুই বারও বিষ প্রয়োগ করা হয়। হিসাব কষে দেখা যায়, শিমে কীটনাশক খরচ বিঘায় ৯ হাজার ধরা হলে সাড়ে ৯ হাজার বিঘা জমিতে ৮ কোটি ১০ হাজার টাকার কীটনাশক ব্যবহার হয়।

সরেজমিনে মূলাডুলির এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু শিম আর শিমখেত। চাষিরা গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, খেতে কীটনাশক স্প্রে এবং কেউ শিম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় কীটনাশকের উৎকট গন্ধে পথ চলতে নাকে রুমাল দিতে হয়।

মুলাডুলি এলাকার শিমচাষি অহিদুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিমের আবাদ করছি। এ বছর কীটনাশক বেশি লাগছে। পোকা দমনে কোনো কোনো দিন সকাল-বিকাল দুই বেলাই কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। বেতবাড়িয়ার রায়হান আলী জানান, এখানে ৯৫ ভাগ জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। শিমের গাছ বড় হওয়ার পর পচনরোধ ও পোকা দমনে ২-৩ দিন পরপরই কীটনাশক দিতে হয়। কীটনাশক ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও পরিবেশ নষ্ট হয়, কিন্তু কিছু করার নেই। শিম চাষ করতে হলে কীটনাশক ব্যবহার করতেই হবে। 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইল্লা বলেন, আগাম শিমে এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে শিমচাষে কীটনাশক বেশি প্রয়োজন হয়। পরিবেশবান্ধব কিছু কীটনাশক বাজারে এসেছে। কৃষকদের সেসব কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি। চিকিৎসক ডা. কে সি দত্ত বলেন, সবজি আবাদে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব সবজি খেলে ক্যানসার হতে পারে। কিডনি ও লিভার ড্যামেজ, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানা জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, ফসল উৎপাদনে কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োগবিধি না মানলে এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে তা পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের পর পাঁচ দিন, সাত দিন, ১৪ দিন এবং ২০ দিন পর ঐ সবজি খাওয়ার উপযুক্ত হয়। কিন্তু এগুলো কেউ মানে না। সকালে স্প্রে করে বিকালে, আবার আগের দিন ছিটিয়ে পরের দিন বাজারে নেওয়া হচ্ছে। আগাম শিমসহ অন্য সবজিতে কৃষকরা এই কাজ বেশি করে। এতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থেকেই যায়। এই বিষয়ে আমরা সবসময় কৃষকদের সচেতন করছি। তাদের নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া তাদের জৈব কীটনাশক ব্যবহারেও উৎসাহিত করছি।