বাংলা টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা খালেদ খান। তার অভিনীত এবং নির্মিত নাটকগুলো সে সময় খুব জনপ্রিয় ছিল। বর্তমান প্রজন্মের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। ১৯৫৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় মসদই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। ১৯৭৫ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে মঞ্চনাটকে যাত্রা শুরু।
১৯৭৮ সালে নাগরিক নাট্যদলের 'দেওয়ান গাজীর কিসসা' নাটকে কাজ করার মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের শুরু। মঞ্চে অভিনীত তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- দেওয়ান গাজীর কিসসা, অচলায়তন, নূরলদীনের সারা জীবন, ঈর্ষা, দর্পণ, 'গ্যালিলিও', ও 'রক্তকরবী'। ঈর্ষা নাটকে অভিনয়ের জন্য কলকাতায় তিনি খুব জনপ্রিয়তা পান।
খালেদ খান নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে-'রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা', 'পুতুল খেলা', 'কালসন্ধ্যা', 'স্বপ্নবাজ রূপবতী', 'মাস্টার বিল্ডার', 'ক্ষুধিত পাষাণ'। ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে টিভি নাটকে অভিষেক হয় তার। খালেদ খান অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো সিঁড়িঘর। একাধিক নাটকে তার বেশ কিছু সংলাপও জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে নব্বই দশকের নাটক রূপনগর-এ তার 'ছি ছি, তুমি এত খারাপ' শীর্ষক সংলাপটি চলে আসে মানুষের মুখে মুখে।
খালেদ খান অভিনীত জনপ্রিয় টিভি নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাটকের মধ্যে রয়েছে- 'এইসব দিনরাত্রি', 'তুমি কোন কাননের ফুল', 'রূপনগর', 'মফস্বল সংবাদ', 'লোহার চুড়ি', 'সকাল সন্ধ্যা'।
খালিদ খান অভিনয় শুরু করেন আশির দশকে, মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। হুমায়ুন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি' ও ইমদাদুল হক মিলনের 'রূ পনগর' নাটকে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান তিনি। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে দেওয়ান গাজীর কিসসা, নূরুল দীনের সারাজীবন, দর্পণসহ ৩০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। সুবচন নাট্য সংসদের 'রূপবতী' নাটকেরও নিদের্শনা দেন। 'রূপনগর' নাটকের হেলাল চরিত্রটি খুব জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি।
খালেদ খানের পিতা নজরুল ইসলাম খান স্কুল মাস্টার ছিলেন। কিন্তু তিনি ফুটবল খেলা, অভিনয় ও গানের জন্য এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। মা খালেদা বেগম গৃহিণী ও সংগীত অনুরাগী ছিলেন। নয় ভাই বোনের মধ্যে খালেদ খান সবার বড়। খালেদ খানের ছোট ভাই মামুন জাহিদ বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য সংগীত শিল্পী।
২০ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে মটর নিউরন রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করেন এই অভিনেতা। শিল্পকলার অভিনয় শাখায় অবদানের জন্য তাকে ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। নতুন কোনো চরিত্র নিয়ে আবার হাজির না হলেও তার রেখে যাওয়া কাজ দিয়ে তিনি ভক্তদের মাঝে বেঁচে থাকবেন চিরদিন।