'ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস' ধ্বংস করতে টুইটার কেনেন ইলন মাস্ক  

ইলন মাস্ক টুইটার (বর্তমানে এক্স) কিনেছেন তথাকথিত ‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস’ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে। তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিক সমাজের বিভিন্ন সমস্যার পেছনে এই ‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস’ দায়ী।

‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস’ একটি বিস্তৃত শব্দযুগল, যা চরম উদারপন্থী নীতিমালা ও দর্শনের সমালোচনার জন্য কিছু রক্ষণশীল মহলে ব্যবহৃত হয়।  

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক লেখেন, '২০২১ সালে আমি ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস ধ্বংস করার সংকল্প করেছিলাম এবং এখন এটি মুছে গেছে।' পোস্টের সঙ্গে তিনি ২০২১ সালের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে লেখা ছিল 'ট্রেসরুট ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস'। 

পোস্টের মন্তব্যে একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, 'এটাই কি টুইটার কেনার প্রধান কারণ ছিল?' জবাবে মাস্ক সরাসরি বলেন, 'হ্যাঁ।' 
 
মাস্ক প্রায়ই ‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস’-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন। এটি এমন একটি শব্দগুচ্ছ, যা ট্রান্সজেন্ডার নীতিমালা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ, এবং কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার বদলে বৈচিত্র্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো চরম উদারনৈতিক অবস্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।  

কানাডিয়ান মনোবিজ্ঞানী ড. জর্ডান পিটারসনের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, 'ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস আমার ছেলেকে "মেরে ফেলেছে"।' তিনি দাবি করেন, তার ট্রান্সজেন্ডার সন্তান জেভিয়ারের চিকিৎসার বিষয়ে প্রতারণামূলক নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যার ফলে তার ছেলে স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাত্ব বরণ করে।  

মাস্ক বলেন, 'আমার ছেলে জেভিয়ার ওয়োক মাইন্ড ভাইরাসের কারণে মারা গেছে। তখনই এই ভাইরাস ধ্বংস করার শপথ নিয়েছিলাম।'  

২০২২ সালে ইলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে টুইটার কিনে নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখেন। এরপর প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।  
- অধিকাংশ কনটেন্ট মডারেশন স্টাফ বরখাস্ত করা হয়।  
- সেন্সরশিপ নীতিমালা শিথিল করা হয়।  
- জানুয়ারি ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলের ঘটনার পর নিষিদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা হয়।  

মাস্কের উদাহরণ অনুসরণ করে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কনটেন্ট মডারেশন নীতিমালা শিথিল করার ঘোষণা দেন।  
- ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  
- ডিইআই (বৈচিত্র্য, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি) নিয়োগ প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়েছে।  
- নন-বাইনারি ও ট্রান্সজেন্ডার কর্মীদের জন্য পুরুষদের বাথরুমে টেম্পন সরবরাহও বন্ধ করা হয়েছে।  
 
ইলন মাস্কের মতে, ‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাস’ ধ্বংস করা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্কারের মূল লক্ষ্য। টুইটার থেকে এক্স এবং এর নীতিমালায় পরিবর্তন এনে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন, যা আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।