রাজশাহীতে বিএমডিএ’র সদর দপ্তরে দুদকের অভিযান

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গুরুত্বপূর্ণ দুই দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় বিএমডিএ’র সেচ শাখা এবং ‘ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা বর্ধিতকরণ’ শাখার বিভিন্ন নথিপত্র তলব করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন।

জানা গেছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বিএমডিএর ১৬ হাজারের বেশি গভীর নলকূপ রয়েছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর সব অপারেটরের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এরপর নতুন অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এসব নলকূপের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পেতে ২৩ হাজার ৭৫২ জন আবেদন করেন। মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের পর প্রায় ৮ হাজার জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

এই তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোরে বিএমডিএর জোন কার্যালয় ঘেরাও, এমনকি কার্যালয়ে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্তিতিতে বিএমডিএর ‍গুরুত্বপূর্ণ দুই দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুদক।

বিএমডিএর সেচ শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকার সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার নয়, বড়জোর ৫ থেকে ৬ শতাংশ হতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, শুধু সেইগুলো আটকে রয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা নথিপত্র দেখেছেন। আরও কিছু নথিপত্র তারা চেয়েছেন। ওই সব নথিপত্র সরবরাহের জন্য সময় নেওয়া হয়েছে।’

অভিযান শেষে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বলেন, কর্মকর্তারা তাদের স্বপক্ষে কাগজপত্র দেখিয়েছেন। অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এগুলো হাতে পাওয়ার পর চূড়ান্ত বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।