লস অ্যাঞ্জেলসে ভয়াবহ দাবানল: ‘রহস্য’ উদঘাটন কবে হবে?

ভয়াবহ দাবানলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস বিপর্যস্ত। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ছড়াতে থাকা ধ্বংসাত্মক এই দাবানলে এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। পুড়ে গেছে ১২ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি। দেশটির তদন্তকারীরা দাবানলের ঘটনায় সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছেন। 

ন্যাশনাল ফায়ার প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের সূত্রপাত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় একটি কারণ বজ্রপাত। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আগুনের ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি বলে ধারণা তদন্তকারীদের। 

ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের শুরু হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পূর্ব দিক থেকে। সেখানকার প্যালিসেইডস এলাকা বা ইটনের দাবানলকবলিত এলাকার আশপাশে বজ্রপাত হয়েছে বলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই সব এলাকায় দাবানলে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

los angels

এরপর আরও দুটি সাধারণ কারণের প্রসঙ্গ চলে আসে। এর একটি হলো ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক লাইনে স্ফুলিঙ্গ হওয়া। 

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা গিরিখাত ও পর্বতে অনুসন্ধান করছে এবং শিলা, বোতল, ক্যানে পরীক্ষা চালাচ্ছে এই আগুনের সূত্রপাত জানতে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু মিলছে না। এখন পর্যন্ত সূত্র না পাওয়ায় অনেকে সন্দেহ করছেন অগ্নিসংযোগকারীদের। আবার কেউ ভাবছেন বৈদ্যুতিক লাইনে স্ফুলিঙ্গ হওয়া।  

এসব তত্ত্ব মাথায় রেখেও তদন্তকারীরা পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আগুনের ধরণ, নজরদারি ফুটেজ, প্রতক্ষ্যদর্শী ও প্রথম এই দাবানলের খবর জানানোকারীর তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান করছেন। 

বিবিসি বলছে, তবে এই দাবানলের কারণের শেষমেশ উদঘাটন হতে বছরব্যাপী সময় লাগতে পারে।  

los

ইউএস ব্যুরো অফ অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের (এটিএফ) লস অ্যাঞ্জেলেস বিভাগের মুখপাত্র জিনজার কলব্রান বিবিসিকে বলেছেন, প্রত্যেকেই উত্তর চায়, আমরা উত্তর চায়, কমিউনিটি উত্তর চায়। তারা ব্যাখ্যা ডিজার্ব করে। কিন্তু এটির জন্য সময় লাগবে। 

এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতাসের যে তীব্রতা আগুন বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি তৈরি করেছিল, সেই হারিকেন-রূপী বাতাসের গতি কমে এসেছে। এতে ৯ দিন ধরে দাবানলের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করে আসা দমকলকর্মীরা কিছুটা ফুরসত পেয়েছে। 

wildfire

দেশটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাতাসের গতি কমায় গত কয়েকদিনের তুলনায় দাবানলের ভয়াবহতা আপাতত কমে আসতে চলেছে। এরইমধ্যে দুইটি জায়গায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানোয় অগ্রগতি হয়েছে।