একাকিত্ব দূর করার জন্য মানুষ কি না করে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে, গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে সময় কাটায়। কিন্তু তাই বলে একাকিত্ব দূর করতে সঙ্গী হবে রোবট! শুনতে অবাক করার মতো হলেও বাস্তবে এমনটি ঘটতে চলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি রিয়েলবোটিক্স সম্প্রতি আরিয়া নামের এমন এক তরুণী রোবটকে বাজারে এনেছে। এই রোবটের কাজ হলো মানুষকে সঙ্গ দেওয়া।
এরইমধ্যে লাস ভেগাসের একটি ইলেকট্রনিক্স শো-এ আরিয়া সবার মন কেড়েছে। রিয়েলবোটিক্সের দাবি, একবার এই রোবট কিনলে বাস্তব জীবনের আর প্রেমিকার প্রয়োজন হবে না!
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিয়াকে শুধু রোবট বললে ভুল হতে পারে। সে যেন রোবটের চেয়ে বেশি কিছু। আরিয়া কথা বলতে পারে, শুনতে পারে, নড়াচড়া করতে পারে। খুশির খবরে হাসে, দুঃখের খবরে কাঁদতে পারে। গানের তালে মাথা নাড়াতে পারে। সুরের তালে নাড়াতে পারে হাতের আঙুল। এমনকি মন খারাপ হলে অভিমানও করতে পারে! বলা হয়েছে, একদম প্রেমিকার মতোই আচরণ করবে আরিয়া।
গত কয়েক দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যে উদ্ভাবন, তার চরম উৎকর্ষ ঘটেছে এই রোবটের মধ্যে।
রিয়েলবোটিক্সের সিইও অ্যান্ড্রু কিগুয়েল জানান, তার কোম্পানির লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের কাছ থেকে প্রায় আলাদা করা যাবে না। একই সঙ্গে তা পুরুষদের একাকিত্ব দূর করবে।
তিনি বলেছেন, রোবট নির্মাণে আমরা এক অনন্য স্তরে পৌঁছেছি। এটা মানুষের রোমান্টিক সঙ্গী হতে পারে, আপনার কথা মনে রাখবে এবং বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের মতো আচরণ করবে।
তবে এমন রোবট প্রেমিকার জন্য খরচও কিছু কম নয়। এই রোবটটির দাম পড়বে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে আরিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এনিয়ে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।
কেউ আরিয়ার মুখভঙ্গি দেখে অভিভূত হয়েছেন, আবার কেউ ভীত হয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা একজন মানুষ। দেখতে কার মতো যেন মনে হচ্ছে, কিন্তু মনে করতে পারছি না।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘খুব অস্বস্তিকর। সত্যিই ভয় পাওয়ার মতো।’