কক্সবাজার সৈকত সংলগ্ন সমিতিপাড়া যাওয়ার পথে অস্ত্রের মুখে তিন পর্যটককে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইলসহ মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছয় তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুটকৃত মালামালও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার তরুণেরা হলেন চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার ভবানীপুরের বড় হাতিয়া গ্রামের ফাহিম রাজ (২২) ও স্কুল রোড এলাকার শহিদুল ইসলাম (২২), কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া কালুর দোকান এলাকার শাখাওয়াত বিন কাইয়ুম ওরফে আকাশ (২৭), বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন চৌধুরীপাড়ার আশরাফুল ইসলাম (১৯), সমিতিপাড়ার সৈয়দ নুর (২০) ও মো. জিসান (১৯)। ফাহিম ও শহিদুল পর্যটন মৌসুম শুরুর পর কক্সবাজারে এসে বিভিন্ন এলাকায় থেকে এখানকার অপরাধীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া রাস্তার মুখে (বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশে) হৃদয় (২১), তারেক আজিজ (২৩) ও সাজ্জাদ মজুমদার শুভ (২২) নামের তিন পর্যটককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল। ওই সময় পর্যটকেরা শহর থেকে সড়কপথে সৈকতের দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে একটি মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে চেপে সেখানে আসে ছিনতাইকারীরা। সেখানে তারা তিন পর্যটককে জিম্মি করে নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা, একটি আইফোনসহ দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কক্সবাজার মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন পর্যটককে উদ্ধার করলেও ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরুণদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ সময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল, পাইপ রেঞ্জ, চাকু, প্রায় ৬০ ইঞ্চি লম্বা লোহার চেইনসহ একটি ইজিবাইক ও নম্বর বিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয়, পর্যটকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া মুঠোফোন দুটিও।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান বলেন, গ্রেপ্তার তরুণদের বিরুদ্ধে থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের এসপি মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তার তরুণদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থানায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও সৈকতে নামার বিভিন্ন সড়কে ছিনতাইকারীরা ওত পেতে থাকে। সুযোগ বুঝে তারা পর্যটকদের মালামাল লুট ও ছিনতাই করে। এরকম আরও কয়েকটি টিম রয়েছে বলে খবর মিলেছে- ছিনতাইকারীদের সেসব টিমকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।