বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

একটি আনন্দ আয়োজন

  শাফিকুল ইসলাম

 

চার বছরের ক্যাম্পাস লাইফটা মনে হয় একটু তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গেল। সময় কেটে গেছে পাখির ডানায় ভর করে।  সেই কোন দিন আসলাম আর এখন নিজেদেরই যাওয়ার সময় হয়ে গেল। খুব মিস করবো পরিচিত এই জায়গাগুলোকে আর পরিচিত বন্ধুদের মুখগুলোকে। ভোর থেকেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ১০টায় বৃষ্টি  যখন বিশ্রাম নিচ্ছিল ঠিক তখনই ক্যাম্পাসে লুঙ্গি, ধবধবে সাদা টি-শার্ট আর মাথায় গামছা পরা একদল শিক্ষার্থীর সমাগম। দেখে মনে হচ্ছিল— পুরোদস্তুর বাঙালি। মেয়েরা সেজেছিল বর্ষার সাজে। 

ক্যাম্পাসে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস শেষে লালবাসের সিট দখলের জন্য দৌড়াদৌড়ি। এমন অনেক স্মৃতি আছে যা কখনো শেষ হয় না। কিছু থেকে যায় আজীবনের জন্য। এ স্মৃতি জড়িয়ে আছে স্যার, ম্যামদের ভালোবাসায়, ক্লাস রুমের দেওয়ালের প্রতিটি ইটে, প্রতিটি চেয়ার-টেবিলে, বন্ধুদের সঙ্গে  ঘোরা-ঘুরি, খুনশুটি, কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে সময় কাটানো, সবার সঙ্গে নৌকা ভ্রমণ। এভাবে পার হয় জীবনের সব থেকে সেরা দিনগুলো। কখন যে সময় পার হয় কেউ টেরই পায় না। শিক্ষাজীবনের  মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি হূদয়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখতে, স্মরণীয় করে রাখতে, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতে সবাই। সকলের মনে আজীবন ১১ জুলাই দিনটি একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। সকাল ১০টায় মুক্তমঞ্চে ফটোসেশন শেষে সবার জন্য দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সাদা টি-শার্টে রঙিন কলমে একে অন্যের প্রতি ৪ বছরের অনুভূতিগুলো সংক্ষেপে লিখে দিলো।

আনন্দ শোভাযাত্রায় সবাই নানা রঙে, নানান ঢঙে বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে মুখরিত করে তুলে পুরো ক্যাম্পাসকে। এর পর ৩টি ট্রাকে চড়ে গোটা বরিশাল শাহরে আনন্দ শোভাযাত্রা করে। নাচের তালে তালে চলন্ত ট্রাকটিই যেন হয়ে উঠলো এক রঙ্গমঞ্চ। সেলফি তোলা, সবাই একসঙ্গে মিলে খাওয়া-দাওয়া করা আর কী না করলাম। সন্ধ্যায়  স্যার, ম্যামদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা, ক্রেস্ট বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর রাতে ডিনার পার্টির সময়টাও ছিল দারুণ। কমেডিম্যান খ্যাত বন্ধু নবীর চার বছর ধরে বান্ধবী শান্তাকে হাজার বার প্রপোজ করেও রাজি করাতে পারেনি। তাই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমাও চেয়েছিল শান্তার কাছে।

স্মৃতিচারণ করতে এসে বন্ধু আরিফের ‘বন্ধু ভুলে যেওনা                 কখনো, যেখানেই থাকো যেভাবেই থাকো, মনে রেখ আমিও আছি তখনো’ গানটি শুনে নিজের অজান্তেই চোখের পাতা ভিজে উঠলো। বরফের মতো যাচ্ছিল ভিতরের সবকিছু। হঠাত্ মনের কোণে এক  শূন্যতা ভর করল। মনে হলো বাজ পাখির মতো ছোঁ মেরে এই বুঝি কিছু একটা নিয়ে গেল। বিদায়ের বেলায় অনেকের মুখে বেরিয়ে আসলো, ভীষণ আনন্দ লাগছে ঠিকই; কিন্তু তার মধ্যেও খানিকটা বেদনা              লুকিয়ে আছে। প্রিয় স্যার, ম্যাম, ভালোবাসার ক্যাম্পাস এবং বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট।