বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, সমুদ্রের অন্ধকার তলদেশে ধাতব বস্তুগুলো অক্সিজেন তৈরি করছে। অদ্ভুত এই ঘটনাটি ভালোভাবে বোঝার জন্য সমুদ্রের গভীরতম অংশগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এই মিশন অন্যান্য গ্রহেও জীবনের সম্ভাবনার দিকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।
প্রাথমিকভাবে আবিষ্কারটি সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করেছিল। কেননা আগে আমরা জানতাম, সূর্যের আলোতে অক্সিজেন কেবল উদ্ভিদের দ্বারা উত্পাদিত হতে পারে। যাকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
এখন গবেষকরা বিশ্বাস করেন, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই অক্সিজেন অন্ধকারে ধাতব পিণ্ড দ্বারাও তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি অন্যান্য গ্রহে ঘটতে পারে। অক্সিজেন সমৃদ্ধ পরিবেশ অন্যভাবে তৈরি হতে পারে, যা জীবনের বিকাশ ঘটতে পারে।
প্রধান গবেষক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সুইটম্যান বলেন, আমরা এরই মধ্যে নাসার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছি 'ডার্ক অক্সিজেন' নিয়ে। সরাসরি সূর্যের আলো ছাড়াই অন্য গ্রহে কীভাবে জীবন টিকে থাকতে পারে, এটি সে সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নতুন আকার দিতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ডার্ক অক্সিজেনের আবিষ্কারটি নতুন করে বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক বিতর্কের সূত্রপাত করে। প্রশ্ন উঠছে - আসলেই যদি সমুদ্রের চরম গভীরতায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে অক্সিজেন উত্পাদিত হয়, তবে এটি সমুদ্রের তলদেশে কী জীবন বাঁচিয়ে রাখতে পারে এবং বিকাশ লাভ করতে পারে?
অধ্যাপক সুইটম্যান বলেন, আমাদের কাছে এমন যন্ত্রপাতি রয়েছে, যা সমুদ্রের গভীরতম অংশে যেতে পারে। আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা এটি (ডার্ক অক্সিজেন তৈরি) অন্য জায়গায়ও ঘটতে দেখব। তাই আমরা এটি কী কারণে ঘটছে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করব।
বিস্ময়কর এই গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল গত বছর নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা হাওয়াই এবং মেক্সিকোর মধ্যবর্তী গভীর সমুদ্রের একটি অঞ্চলে সমুদ্রের তলদেশে প্রায় ৫ কিলোমিটার গভীরতায় সেন্সর পাঠিয়েছিলেন।
সামুদ্রিক এই অঞ্চলটি ধাতব বস্তুর ধ্বংসাবশেষ দিয়ে আচ্ছাদিত। গবেষণা দলটি বারবার সেন্সর মোতায়েন করে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ছিল। তবে অধ্যাপক সুইটম্যান সে সময় ঘটনাটি উপেক্ষা করছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন, আমি এটিকে উপেক্ষা করেছিলাম। কারণ আমাকে শেখানো হয়েছিল যে, আপনি কেবল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই অক্সিজেন পান।
এরপর বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে সমুদ্রের পানির নিচে পাওয়া ধাতব পিণ্ডগুলো সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, ধাতব পিণ্ডগুলোই সমুদ্রের পানি থেকে অক্সিজেন তৈরি করছে।
তারা দেখতে পান, ধাতব পিণ্ডগুলো 'বৈদ্যুতিক স্রোত' তৈরি করে, যা সমুদ্রের পানির অণুগুলোকে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনে বিভক্ত (ইলেক্ট্রোলাইজ) করতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি