অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে তাদের উদ্যোগ

সিজারিয়ান প্রসেস

অর্থনৈতিক লাভ, নরমাল

ডেলিভারিতে ডাক্তারদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব, মিডওয়াইফের স্বল্পতাও এর কারণ। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংগঠন সেভ দ্যা চিলড্রেনের সঙ্গে সমন্বয়

করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ

এই মহতী উদ্যোগের

সারথী হবেন

  মাহবুব নাহিদ

 

বাংলাদেশে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে একটি দেশে ১০-১৫% প্রসূতির প্রসব সিজারের মাধ্যমে হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে তার হার ৩১% যা আশঙ্কাজনক। সেভ দ্যা চিলড্রেন বলছে, এই সিজারের প্রায় ৭৭% ই অপ্রয়োজনীয়। একটি গবেষণায় দেখা যায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় ৮৩% প্রসবই হচ্ছে সিজারের মাধ্যমে।

তাই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে এক নারী-ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সংগঠন এই লড়াইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে যার নেতৃত্ব প্রদান করা হয় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী বিষয় নিয়ে আইনি লড়াই করা ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে। তার সঙ্গে সহযোগিতায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট গুলশান জুবাইদা, ব্যারিস্টার মুনিজা কবির, ব্যারিস্টার ফারিয়া আহমেদ, অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার ও অ্যাডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পা। কথা হয়েছিল রাশনা ইমামের সঙ্গে।

অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে একটি আইনি অবকাঠামো দাঁড় করানোর জন্য নিরলস এক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার দল। তাদের দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে কমিটি করে আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি নীতিমালা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আইন প্রণীত হবার আগ পর্যন্ত লড়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম মনে করেন, এ বিষয়ের ওপরে যথাযথ নজরদারির অভাবই এর প্রধান কারণ। পাশাপাশি সিজারিয়ান প্রসেস অর্থনৈতিক লাভ, নরমাল ডেলিভারিতে ডাক্তারদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব, মিডওয়াইফের স্বল্পতাও এর কারণ। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংগঠন সেভ দ্যা চিলড্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ এই মহতী উদ্যোগের সারথী হবেন। সরকার, ডাক্তার, মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই এই অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে এগিয়ে আসবেন।

ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম স্বপ্ন দেখেন খুব দ্রুতই এর একটি আইনি অবকাঠামো তৈরি হবে যেমনটা ব্লাস্টের সহযোগিতায় তারই লড়াই হয়েছিল সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার নীতিমালা। আর একবারেই এই হার কমে না গেলেও আস্তে আস্তে কমে আসবে অপ্রয়োজনীয় সিজারের হার। এজন্য প্রয়োজন রোগীদেরও সচেতনতা।