ফেনী পৌরসভা

নগদ টাকায় ভবনের নকশা অনুমোদন দেন নির্বাহী প্রকৌশলী!

বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন করাসহ সব কাজ চুক্তিতে করার অভিযোগ উঠেছে ফেনী পৌরসভার  নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একের এক অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য কারণে ‘টুঁ’ শব্দে প্রতিবাদ করছেন না কেউ।

জানা গেছে, ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পদে মো. আজিজুল হক প্রায় ২৩ বছর ধরে একই দপ্তরে কাজ করছেন। ২০০১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ফেনী পৌরসভায় যোগদান করেন আজিজুল হক। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ৯ মাস নোয়াখালী পৌরসভায় চাকরি করেন। তদবির করে আবারও ফেনী পৌরসভায় যোগ দেন। এই কর্মস্থলে বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। বারবার বদলির আদেশ হলেও ফেনী ছাড়েন নি তিনি। 

সরেজমিনে আজিজুল হকের অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেনী পশ্চিম উকিলপাড়ার বাসিন্দা শাহজালাল ভুঁঞা একটি বাড়ি নির্মানের নকশা অনুমোদনের জন্য আজিজুল হককে নগদ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। মোট পাঁচ লাখ টাকা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে এ টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নগদে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন আজিজুল হক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আজিজুল হক বলেন, উনি মুরুব্বী মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে দীর্ঘক্ষণ লাইন ধরতে হয়। তাই তাকে সাহায্য করছি। তবে তিনি নগদ টাকার কোন রশিদ দেন নি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিষোদগার করে বলেন, যতই লিখেন আমার কিছুই হবে না৷

শাহজালাল ভুঁঞার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঘুষের টাকা নয়। আমরা কয়েকজনের বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য দিয়ে যাচ্ছি,আগেও দিয়েছি। এখনো কোন সমস্যা হয়নি।

শুধু ভবনের নকশা নিয়েই নয়। স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, বাণিজ্য, সরকারি ভবন নির্মাণে কারসাজি, নিজস্ব অফিস নিয়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে আজিজুল হকের বিরুদ্ধে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ নভেম্বর পৌরসভার মাসিক সাধারণ সভায় ভবনের নকশা অনুমোদনের পর পে-অর্ডারের টাকা জমা না হওয়ায় সব গ্রাহককে পে-অর্ডার পরিবর্তন করে নতুন করে নোটিশ করার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে  পৌর সালিশি বোর্ড গঠন করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হকের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আবুজর গিফরী বলেন, অনুমোদন ফরমের মূল্য ও প্রতি স্কয়ার ফিট হিসেবে পৌরসভার নির্ধারিত মূল্য ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নগদ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই।

ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পৌরসভায় নাগরিক সেবাসহ ট্যাক্স ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। পৌরসভায় নগদ অর্থ নেওয়ার কোন নিয়ম নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।