শেষ সময়ের বন্ধু বলরাম দাস

বলরাম দাস (৩৮) মানুষের শেষ সময়ের বন্ধু। যখনই হিন্দুধর্মের কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখনই ডাক পড়ে তার। কারণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন বলরাম। এলাকার মানুষের কথা—'বলরাম হলেন আমাদের শেষ সময়ের বন্ধু।'

বলরাম দাস, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের অমূল্য দাসের ছেলে। তিনি পেশায় সোনা-রুপার অলংকার পলিশ কারিগর হলেও মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তিনি কোনো পারিশ্রমিক না নিয়েই সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে তখন ঐ মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে প্রথমেই ডাক পড়ে বলরাম দাসের। বলরাম দাস একাই কুঠার দিয়ে লাকড়ি করা, মৃত ব্যক্তিকে পোড়ানোর জন্য শ্মশান তৈরি করা,এমনকি অনেক সময় মৃত দেহ একাই স্নান করিয়ে থাকেন।

বাউফল পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অতুল পাল বলেন, ‘বলরাম দাস একজন উদার মনের মানুষ। কোথাও যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানষের মৃত্যু হয়, তখন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য বলরাম দাসকেই ডাকা হয়। তিনি এ কাজে একজন নিবেদিত মানুষ। তিনিই আমাদের শেষ সময়ের বন্ধু।

কালাইয়া বন্দর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি শিবান্দ রায় বনিক বলেন, 'বলরাম দাস হিন্দুসমাজে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি শুধু স্বাভাবিক মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করেন না, করোনার ভয়াবহ সময়ও তিনি সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।'

বলরাম দাস বলেন,' অনেক ছোট বয়স থেকেই মৃত মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করে আসছি। প্রথমে অন্যের সহকারী হিসেবে কাজ করেছি। এখন একাই করি। আমাদের সমাজে একটা বৈষম্য রয়েছে। ধনী পরিবারের কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে শ্মশানঘাটে লোক জনের অভাব থাকে না। অথচ দরিদ্র পরিবারের কেউ মারা গেলে তাদের খুব কাছের স্বজন ছাড়া কারো দেখা মেলে না। তখন ঐ দরিদ্ররাই ডাকে আমাকে। এ পর্যন্ত ৯৬ জনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিজ হাতে করেছি।'