ভোজ্য তেল মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভোজ্য তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে তেল নিয়ে বছরের পর বছর তেলেসমাতি কারবার চলছেই। নানা কারসাজির মাধ্যমে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতার কথা কারো অজানা নয়। বারবার দাম বাড়ানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগেরও অন্ত নেই। ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকেও হিমশিম খেতে হয়।
আমাদের প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের বড় একটি অংশই আমদানি করতে হয় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর বিপরীতে দেশে উৎপন্ন হয় মাত্র ৩ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার সাড়ে ৮৭ শতাংশই আমদানি করতে হয়। বিপুল পরিমাণ এই ভোজ্য তেল আমদানি করতে বিদেশে চলে যায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও দাম কিছুটা কমলেও, বাজারে অস্থিরতা চলমান। এ ছাড়া আমাদের ভোজ্য তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানি করে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
যাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তাদের কারসাজিতেই প্রতিবার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং বাজার থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বিপুল অর্থ। তাদের এই সিন্ডিকেট নিয়ে কথাবার্তা হলেও সিন্ডিকেট দমনে কোনো ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপরও পড়ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে একদিকে যেমন বাজারে তদারকি বাড়ানো দরকার, তেমনি দেশে ভোজ্য তেল উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশকে ভোজ্য তেলে স্বনির্ভর করতে ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি' নামক প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় সরিষা, সূর্যমুখী, তিল, চিনাবাদাম ও সয়াবিন চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুদদারি রোধে শক্তিশালী আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। তেল মজুতকারী এবং দাম বাড়ানোর জন্য দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করতে হলে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করতে হবে এবং ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা কমিয়ে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সঙ্গে সঙ্গে সব মহলের বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ