সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেককে সম্মান জানাতে রিপাবলিকান জনতার উদ্দেশে 'নাৎসি স্যালুট' দিয়েছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। এমন ঘটনায় অনেকেই তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'ফ্যাসিবাদী' বলে অভিহিত করেন।
এরপর সম্প্রতি জার্মানির হালে শহরে অতি ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দলের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভাষণ দিতে দেখা গেছে ইলন মাস্ককে। ফলে সেই সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
বিশাল ভিডিও পর্দায় হাজির হয়ে মাস্ক বলেন, অতীতের অপরাধবোধের উপর খুব বেশি ফোকাস করা হচ্ছে। এটি থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, জার্মান হিসেবে গর্বিত হওয়াটা সঠিক। জার্মান সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ নিয়ে গর্বিত হওয়া ভালো। এটিকে বহুসংস্কৃতিবাদের মধ্যে হারিয়ে যেতে না দেওয়াও ভালো।
ইলন মাস্ক কি নাৎসি?
নাৎসিরা এমনটাই মনে করেন। খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এবং যুক্তরাষ্ট্রে কট্টর নব্য-নাৎসিবাদী বলতে যাদের বুঝানো হয়, তারা মাস্কের স্যালুটকে নিজেদের 'ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্যারিসের জাঁ জাউরেস ফাউন্ডেশনের অবজারভেটরি অব পলিটিক্যাল র্যাডিক্যালিজমের সহ-পরিচালক জ্যঁ-ইভস কাম্যু বলেন, তিনি নাৎসি নন। মাস্ক ও ট্রাম্প আদর্শিক নয়, তারা মূলত স্বার্থপর। তারা যে ধরনের শাসন ব্যবস্থা চায়, তা স্বৈরতন্ত্রের মতো। আইনের শাসন এক ব্যক্তির দ্বারা চায় তারা, যার কোনো সীমা নেই। তাদের চাওয়ার কোনো সীমানা নেই।
আমেরিকান কলেজ অব গ্রিসের ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক কনস্ট্যান্টিনোস ফিলিস বলেন, আমি বিশ্বাস করি তিনি (ইলন মাস্ক) আদর্শগতভাবে নির্বিকার। আমি তার মধ্যে সুসংগত রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। তার চিন্তাভাবনা তার ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং বিভিন্ন ভাসমান ধারণা থেকে উদ্ভূত।
হ্যালেতে মাস্কের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে ফিলিস বলেন, জার্মানিতে এবারের নির্বাচন অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটা পুরো ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে, সম্ভবত বিশ্বের ভাগ্যও।
মাস্ক যদি আদর্শবাদী না হন, তাহলে অতি ডানপন্থীদের নিয়ে কেন মাথা ঘামাচ্ছেন?
মাস্ক যদি সত্যিকারের নাৎসি না হন, তবে কেন ওয়েইডেল এবং যুক্তরাজ্যের সংস্কার পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের মতো অতি ডানপন্থী দলের নেতারা তার সমর্থনের জন্য চিৎকার করছেন? ফিলিস বলছিলেন, এটা স্পষ্ট যে, মাস্ক অর্থ চায় এবং এক্সের মাধ্যমে ওইসব লোকদের নিজেকে প্রকাশ করার জন্য একটি জায়গা দেয়।
এদিকে, তিনি ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের প্রচারণায় ২৭৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন। এক্স নামকরণ করা টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নিতে ৪৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন।
সাবেক ডেমোক্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০০৯ সালে জ্বালানি বিভাগ থেকে ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার এবং নাসার কাছ থেকে ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পায় মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেস-এক্স। সে সময় ওই কোম্পানি বন্ধের হাত থেকে বেঁচে যায় এই ঋণ পেয়ে। আর এখন তিনি রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাই কেউ কেউ মনে করেন, মাস্কের রাজনীতি পুরোপুরি খামখেয়ালিপনা।
ফিলিস বলছিলেন, মাস্ক অন্যদের তুলনায় সিস্টেমবিরোধী জনতাকে সমর্থন করে যেন অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একটি উচ্ছৃঙ্খল সমাজ, যেখানে পুঁজিবাদ লাগামহীন, সেখান থেকে স্পষ্টতই মাস্ক অনেক কিছু পেতে পারেন।
ফিলিস মনে করেন, ইউরোপ নিয়ে মাস্কের আগ্রহ ইউরপের অর্থনৈতিক ও শিল্প নীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মাস্ক এমন প্রতিযোগীদের দিকে নজর দিয়ে থাকতে পারেন, যাদের তিনি ধ্বংস করতে চান। জার্মান গাড়ি শিল্প এখন সেরা অবস্থানে নেই, তবে এটি টেসলার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে...।