জৌলুস হারাচ্ছে রবীন্দ্র স্মৃতিময় 'টেগর লজ'

কুষ্টিয়ায় শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিময় বাড়ি 'টেগর লজ' অযত্ন-অবহেলায় জৌলুস হারাচ্ছে। বেদখল টেগর লজটি ২০০২ সালে পুনরুদ্ধারের পর কুষ্টিয়া পৌর সভার অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে টেগর লজটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হলেও আজও এটি হস্তান্তর করা হয়নি । ভেস্তে গেছে দ্বিতলবিশিষ্ট ছয় কক্ষের লালচে রঙের দৃষ্টিনন্দন এই বাড়িটি ঘিরে মিউজিয়াম ও সংগ্রহশালা করার উদ্যোগও ।

জানা যায়, জমিদারি পরিচালনার জন্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৯ সালে আসেন পদ্মা-গড়াই চুম্বিত বৃষ্টিয়ার শিলাইদহ পল্লিতে। ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারি পরিচালনার জন্য কবি থেকেছেন শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে। কলকাতা থেকে শিলাইদহে যাওয়ার পথে পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীর অদূরে অবস্থিত টেগর লজটিতে বিশ্রাম নিতেন তিনি । জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি টেগর লজে কবি তার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ঐ সময় টেগর অ্যান্ড কোং নামে তিনি কোম্পানি রেজিস্ট্রি করেন। দেশ বিভাগ ও জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর শিলাইদহের কুঠিবাড়িসহ অন্যান্য সম্পত্তি আসে সরকারি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শহরের মিলপাড়ার 'টেগর লজটি' নানাজনের হাত বদলের ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে বেদখল হয়।

২০০১ সালে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও কুষ্টিয়ার কৃতী সন্তান কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বেদখল টেগর লজটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কুষ্টিয়া পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার ইসরাইল হোসেন আফুকে আহ্বায়ক ও লালন একাডেমির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তাইজাল আলী খানকে সদস্যসচিব করে গঠিত কমিটির প্রচেষ্টায় বাড়িটির মালিকানা দাবিদারকে ৭ দলিলমুলে কুষ্টিয়া পৌরসভার নামে রেজিস্ট্রি হয়। লাখ টাকা পরিশোধ করে ২০০২ সালে টেগর লজটি মিউজিয়াম ও সংগ্রহশালা রূপান্তরের শর্তে টেগর লজটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও তা ভেস্তে গেছে। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পুরাকীতি সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। কিন্তু গেজেটভুক্তির পরও ‘টেগর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুকূলে ‘টেগর লজ' সরকারি লজ' প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও আন্তঃমন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্তে খুব সহজেই টেগর লজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুকূলে হস্তান্তর সম্ভব বলে সংশিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

ঢাকা মিরপুরস্থ ডেভলপমেন্ট রিসার্স ইনিসিএটিভ (ডিআরআই) রিসার্স অ্যাসিসটেন্ট কানিজ আশা জানান, 'টেগর লজ দেখে আমি খুবই মুগ্ধ।' শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল-আমিন জানান, হস্তান্তর করা হলে খুব সহজেই সংস্কারসহ টেগর লজটিকে মিউজিয়াম ও সংগ্রহশালায় রূপান্তর করা সম্ভব বলে তিনি জানান ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, সরকারি গেজেটভুক্ত প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ অন্য কারোর ভোগদখল কিংবা ব্যবহার ন্যায়সংগত নয়। কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টেগর লজটিতে খেয়াল-খুশিমতো রং করেছে, যা আর্কোলজিক্যাল ক্রাইম ।