৬ বছরে ৪ দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে ছয় বছরে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, স্থলবন্দর ও দুধকুমার পূর্বপাড়ের মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে বেইলি সেতুর কিছুটা ভাটিতে দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ দশমিক শূন্য ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সওজ। এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড যৌথভাবে নির্মাণকাজ করছে। ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ হয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ। ফলে দেড়শ বছরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহন এবং স্থানীয়দের।

এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, যে ধীর গতিতে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে, তাতে আগামী দেড় বছরেও এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। নতুন সেতু চালু না হওয়ায় দেড়’শ বছরের এই পুরনো রেল সেতু দিয়ে দিয়ে মালামাল বোঝাই ট্রাক ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা জানমালের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তবে, দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন, সওজ বিভাগ, স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে করা একটি  তদারকি কমিটি  ৪০০ সেফটির বেশী পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচল করতে না পারা সহ বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করলেও অনেকেই এ নিয়ম মানছেন না।  

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানায়, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, নকশা পরিবর্তন, করোনাকালীন স্থবিরতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যয়ও বেড়েছে ছয় কোটি টাকা।

সওজের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুনটির কাজ প্রায় ৫৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।’

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স ও ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের প্রকল্প ম্যানেজার শামীম রেজা জানান, ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মেয়াদের আগেই আমরা কাজটি শেষ করতে পারবো।