বিয়েভীতি নিয়ে ‘ভাল্লাগে না’

শুরু হলো জাহিদ হাসানের নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ভাল্লাগে না’। বিয়েভীতি এবং সংসারজীবনের ভয় কীভাবে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এই প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে নাটকটির গল্প।

নাটকটি প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নাটকটির গল্প খুব প্রাসঙ্গিক। বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি, যা দ্বারা একটি পরিবারের সৃষ্টি হয়। আর সেখানে তৈরি হয় প্রেম, ভালোবাসা, মায়া-মমতা। তবে একই ছাদের নিচে থাকতে গেলে অনেক সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়, ঝগড়া-বিবাদ হয়। কখনো-সখনো সেই বিবাদ গিয়ে পৌঁছায় চূড়ান্ত বিচ্ছেদে। হতাশা নেমে আসে জীবনে। আর এসব থেকেই কারো কারো বিয়ের প্রতি ভয় এবং অনীহা চলে আসে। এই অনীহা একধরনের মানসিক রোগ-যাকে আমরা গ্যামোফোবিয়া নামে চিনি। যারা মানসিকভাবে এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত তারা আসলে নতুন সম্পর্ক নিয়ে আতঙ্কে থাকেন। বিবাহিত জীবন নিয়ে ভয় কাজ করে তাদের মধ্যে। এমন কিছু মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়েই নির্মিত হয়েছে নাটকটি।’

নাটকের শুরুতে দেখা যায়-বরযাত্রী বিয়ের জন্য রওয়ানা দেয়। পুলকের বিয়ে নিয়ে সবাই খুব এক্সাইটেড। একজন আরেকজনকে তাড়া দিচ্ছে। ব্যান্ডপার্টির সাথে নাচানাচি করছে মহল্লার যুবকরা। এমন সময় একজন ছুটে এসে জানায়-এই বিয়ে হবে না। বিয়ের পাত্রী পালিয়ে গেছে। পুলকের বিয়ে ভাঙ্গার ঘটনা এটাই প্রথম না। এর আগেও সাতবার বিয়ে ভেঙ্গেছে তার। বিয়ে ভাঙতে ভাঙতে সবাই তার বিয়ের আশা ছেড়েই দিয়েছে। পুলকের বোন অনেক খাটাখাটনি করে এই বিয়েটা ঠিক করেছিল। পাত্রীপক্ষ এমনকি পাত্রী নিজেও পুলককে পছন্দ করেছে।

সপ্তমবারের মতো এই বিয়ে ভাঙ্গার ঘটনায় পুরো বাড়ির সকলের মন ভেঙ্গে যায়, কিন্তু কেবল একজনই খুশি। আর সে হচ্ছে পুলক নিজে। বিয়ে চূড়ান্ত হবার পর পুলক গোপনে মেয়ের সাথে দেখা করে তাকে বুঝিয়ে বলে এসেছে, সে যেন বিয়েটা ভেঙ্গে দেয়, কারণ পুলকের সংসার ভালো লাগে না। পরিবারের চাপে সে বিয়ে করলেও তিন দিনের মধ্যেই ডিভোর্স দিয়ে দেবে। এমন কথা শুনে মেয়েটা বিয়ে ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হয়।

পুলককে নিয়ে এভাবে এগিয়ে চলবে ধারাবাহিক নাটকটির গল্প। ভাল্লাগে না নাটকটি সপ্তাহে তিন দিন শনি রবি ও সোমবার রাত ৮.৪০ মিনিটে বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে। জাকির হোসেন উজ্জল রচিত ও হানিফ খান পরিচালিত নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন-স্বর্ণলতা দেবনাথ, ডা. এজাজ, সাদিয়া তানভীন, আমিন আজাদ, তারিক স্বপন, তাবাসসুম মিথিলা, কামরুন্নাহার রুমা, শেখ চাঁদনী, মোমিন বাবু প্রমুখ।