জনপ্রিয় অভিনেতা ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিলের অর্ধলক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল আসামি ও তার সাবেক গাড়িচালক শহীদ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে ভোলা জেলার দৌলতখান থানার জয়নগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মূল আসামি শহীদ ও তার সহযোগী আসামি জুয়েল, শাহাবুদ্দিন ও আরজু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো জায়গা থেকে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল অনন্ত জলিলের মালিকানাধীন এজেআই গ্রুপের সাবেক গাড়িচালক শহীদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টরির বিলের ৫৩ লাখ টাকাসহ মোট ৫৭ টাকা চুরির অভিযোগে সাভার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই পলাতক শহীদ বিশ্বাসকে খুঁজছিল পুলিশ।
জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ (অপরাধ) মো. সাঈদুর রহমান পিপিএম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল বাসার পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আশরাফুল আলম সঙ্গীয়, এসআই মো. নজরুল ইসলাম, এএসআই জাহিদ, এএসআই আজহারুলসহ একটি অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামি শহীদ ও তার সহযোগী আসামি জুয়েল, শাহাবুদ্দিন, আরজু বেগমকে ভোলা জেলার দৌলতখান থানার জয়নগর গ্রাম হতে গ্রেফতার করে।
পরে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে আসামি শহীদের নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে মাটির নীচ থেকে ২০ লক্ষ টাকা এবং তার স্ত্রী আরজুর নিকট হতে ৭ লাখ ৫০ হাজারসহ মোট ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মামলার আসামি গ্রেফতার ও উদ্ধার কাজে সার্বিক সহায়তা করেন মামলার বাদী এজেআই গ্রুপের হেড অব এইচ আর এঅ্যাডমিন মো. জাহিদুল হাসান মীর।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল ফ্যাক্টরির বিলের ৫৩ লাখ টাকাসহ মোট ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অনন্ত জলিলের সাবেক গাড়িচালক শহীদ বিশ্বাস। ওই দিনই তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখেন, 'আমার ভক্তদের কাছে আমি আজকে একটি সাহায্য চাচ্ছি। আপনারা সবাই জানেন ১৯৯৬ সাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত এ জে আই গ্রুপ সুনামের সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। আজ আমার ফ্যাক্টরির এক ড্রাইভার মো. শহীদ মিয়া/ শহীদ বিশ্বাস ৫৩ লক্ষ টাকা ফ্যাক্টরির গ্যাস বিল না দিয়ে টাকা গুলো নিয়ে পালিয়ে গেছে। সর্বমোট ৫৭ লাখ টাকা। ফ্যাক্টরির একজন একাউন্টেন্ট মো. জহিরুল ইসলাম ও তার সঙ্গে ছিল জহির। সোনালী ব্যাংকে ভ্যাট দিতে ঢুকে ছিল এবং গাড়িতে টাকাগুলো সহ ড্রাইভারকে সাবধানে দেখাশোনার জন্য বলে গিয়েছিল। মো. জহিরুল ইসলাম (জহির) সোনালী ব্যাংকে যাওয়ার পর সে সুযোগ বুঝে টাকাগুলো নিয়ে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। (জহিরের ভাষ্য মতে)। আমি তার যাবতীয় ইনফরমেশন শেয়ার করলাম। অলরেডি থানায় মামলা করা হয়েছে। যে এই প্রতারককে ধরিয়ে দিতে পারবে তাকে আমি অনন্ত জলিল নিজ হাতে পুরস্কৃত করবো ইনশাল্লাহ।'
ইত্তেফাক/জেডএইচডি