চিটাগং কিংসের পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা 

একাদশ বিপিএল শেষ হলেও আলোচনা-সমালোচনা শেষ হচ্ছে না। পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান যেন কোনোভাবেই মিলছে না। কয়েক দিন পরপর মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এই ইস্যুটি। দুর্বার রাজশাহীর সঙ্গে চিটাগং কিংস মাঠ গরম করে রেখেছে। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক শোধ করা নিয়ে চলছে একের পর এক টালবাহানা। দেশের ক্রিকেট সংস্থা বিসিবির কথায়ও কাজ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রাজশাহীর মালিক এক রাস্তায় হাঁটলেও চিটাগং যেন 'যা খুশি তাই করার' রাস্তায় হাঁটছে। 

চিটাগংয়ের হয়ে একাদশ বিপিএল খেলা কয়েকজন দেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে গতকাল কথা হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাকের। তারা ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বিপিএলের নিয়ম অনুসারে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ টাকা পাওয়ার কথা। নিয়মিত ম্যাচ খেলেছেন এমন এক ক্রিকেটার বলেছেন, তিনি ৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। বাকি টাকা কখন কীভাবে পাবেন, তার কিছুই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে বলা হয়নি। যারা ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন, তারা বাকি টাকা পাবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তবে তারা জানিয়েছেন, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তার আগে বিসিবির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

চিটাগং কিংস এবারের টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলেছে। সেই দলের এমন চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় ভক্তরা হতবাক হয়েছেন। অবশ্য খেলা চলাকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক এক ক্রিকেটারের টাকা পরিশোধ নিয়ে বলেছিলেন, তার টাকা কি গাছে ধরে? বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম পরে জানিয়েছিলেন, ঐ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন চিটাগংয়ের মালিক। 

তবে ক্ষমা চাওয়ার পরেও টাকা পরিশোধের ব্যাপারে চিটাগং কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ দিকে কেবল ক্রিকেটার নয়, দলটির হোস্ট কানাডিয়ান মডেল ইয়াশা সাগরের সঙ্গেও চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতার নজির স্থাপন করেছে। এই বিষয়ে ইয়াশা ও চিটাগং কিংস পালটাপালটি অভিযোগ করেই যাচ্ছে। 

গতকাল দলটির মিডিয়া ম্যানেজার ইয়াকুব রাসেল ক্রিকেটারদের টাকা পরিশোধের বিষয়ে জানিয়েছেন, তিন জন বিদেশি খেলোয়াড়ের শতভাগ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকিদের টাকা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় দেশি ক্রিকেটাররাও রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু দলটির এই বক্তব্যের সঙ্গে কয়েকজন ক্রিকেটারের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি। 

এর আগে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলেছিল, বিপিএল ড্রাফটে থাকা খেলোয়াড়দের চুক্তি ও ম্যাচ ফির অর্থ স্বচ্ছভাবে ও সময়মতো পরিশোধের দায়িত্ব নেবে বিসিবি। এছাড়া সার্বিক লজিস্টিক্যাল সহযোগিতা করা; বিপিএল শেষে বিদেশি ক্রিকেটারদের নিজ নিজ গন্তব্যে নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর জন্য লজিস্টিক্যাল ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করবে বিসিবি। খেলোয়াড়দের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হবে বলেও বিসিবি জানিয়েছিল। তবে কথার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে বিসিবি কাজগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে বিশ্বাস করছেন ভুক্তভোগী ক্রিকেটাররা।