সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পৃথক তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আবাদচন্ডীপুর গ্রামে শহীদ গাজীর ছেলে রাসেল গাজী (১৯) এবং উত্তর আটুলিয়া গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মফিজুল ইসলাম গাজী (২২)।
মামলা সূত্র মতে, সুন্দরবন জহিরনগর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে আবাদচন্ডীপুর গ্রামে মো. খলিল গাজীর ছেলে সালাউদ্দীন বাপ্পি। গত ১৪ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে সালাউদ্দীন বাপ্পি অপর বন্ধুদের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা হতে কৌশলে অপহরণ করে। ওই রাতে বাপ্পি তার বন্ধু আমিন গাজীর বাড়িতে ওই ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। কৌশলে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তার চাচা শাহিন গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পিসহ ৪ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় মামলা (নং-১৯) করে।
অপরদিকে গত ১৬ জুলাই রাত ৯ টার দিকে উত্তর আটুলিয়া গ্রামে এক কন্যাশিশুকে নিজ ঘরে ঘুমান্ত অবস্থায় দেখে একই গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মফিজুল গাজী (২৭) ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে মফিজুল গাজীর বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা (নং-২০) করে শিশুটির বাবা। পুলিশ মফিজুলকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: বাবার কবর জিয়ারতের সময় অঝোরে কাঁদলেন সাদ এরশাদ
অপর এক ঘটনায় নুরনগর মহিলা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গত ১৫ জুলাই সকাল ৮ টার দিকে মাদ্রাসা হতে তার খালাতো ভাই কুলতলী গ্রামে অফেজ উদ্দীন গাজীর ছেলে মহিউদ্দীন ও তার বন্ধু আমিনুরের সহায়তায় অপহরণ করে। ওই রাতে সাতক্ষীরা এক বন্ধুর বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় অপহরণকরীরা তাকে বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহিনুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ওই ছাত্রীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ছাত্রীর পিতা খলিল কারিকর জানায়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আনিছুর রহমান মোল্যা বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ