কুয়েটে হামলার প্রতিবাদে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোল চত্বর এলাকায় এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, কুয়েটে যে বীভৎসতা দেখেছি তা এর আগে আমরা দেখেছিলাম ১৫ জুলাইয়ে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যেভাবে আমার ভাই-বোনদের উপর নৃশংসতা চালিয়েছিল ঠিক একই কায়দায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আজ কুয়েটের শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত করেছে। এরকম ক্যাম্পাস তো ৫আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে চাইনি। আমরা আগে যেভাবে দেখতাম আবরার ফাহাদকে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে হত্যা করার বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছিল এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু সুশীলেরা এই (কুয়েটের) হামলাকেও নানাভাবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা ছাত্র সমাজ বলে দিতে চাই আপনারা যদি আবারো ট্যাগিংয়ের রাজনীতি করতে চান, আপনারা যদি মনে করেন হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং ছাত্রলীগের কায়দায় আগামীর ছাত্র রাজনীতি পরিচালনা করবেন তাহলে ভুল করবেন। ইতিহাসে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রলীগ যেভাবে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, আপনারা যদি নির্বাচনে জিতেও আসেন আপনাদের বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হবে।  

এসময় তিনি ছাত্রদলকে হুঁশিয়ারি করে বলেন, আপনাদের সাবধান করে দিচ্ছি, আপনারা যদি দলীয় লেজুরবৃত্তি পুনরায় করেন, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসগুলোতে অপতৎপরতা, ভয়ভীতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চান তাহলে ভুলে যাবেন না বিপ্লবীরা এখনো জেগে আছে। আবার যদি এরা সজোরে আঘাত হানে তবে আপনাদের কিন্তু অস্তিত্ব থাকবে না। ছাত্রসমাজ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ তাড়াতে পেরেছে আপনারা কয়দিনের কি। এটা মাথায় রেখে আগামীর ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীবান্ধব করুন।

এসময় তিনি ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্য বলেন, বাংলাদেশে যে সংগঠনই সন্ত্রাসীপনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে তাদের বিরুদ্ধেই আপনাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।  

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজীব মিয়া বলেন, 'ছাত্র সমাজ জীবন দিয়েছিল বলেই আপনারা আজ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছাত্র সমাজকে যদি প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করেন তাহলে অবস্থা আওয়ামী লীগের মতোই হবে।'

ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (আইপিই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমাদের মায়ের বুক থেকে আবরার ফাহাদ, বিশ্বজিৎকে কেড়ে নিয়েছিল, আমরা সেই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসগুলো থেকে বিতাড়িত করেছি। তবে সম্প্রতি লক্ষ্য করছি বিগত দিনগুলোতে ছাত্রলীগ যেভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে বর্তমানে কিছু ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সেই পথ অনুসরণ করছে। আমরা বলতে চাই আপনারা অতি দ্রুত সংস্কার হোন না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে ছাত্রলীগের মতো প্রতিহত করবে।

সমাবেশে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদারের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরও বক্তব্য রাখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন ও বাংলা বিভাগের নাসিম।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েটে) ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানালে ছাত্রদল কর্তৃক হামলার শিকার হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।