ফাগুনের রঙে সেজেছে শিমুলবাগান

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুরে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিমুলবাগান। সুনামগঞ্জ শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে যাদুকাটা নদীর তীরে এই শিমুলবাগানের অবস্থান। 

ফাগুন মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ঘুরেঘুরে দেখছেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো অপরূপ সৌন্দর্য। শিমুলবাগানে সারিবদ্ধভাবে গাছের ডালে ডালে মধু খেতে আসছে বুলবুলি, কাঠশালিক, হলদে পাখিরা। পাখির কিচিরমিচির ডাক ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বাগানে। থেকে থেকে ফোটা ফুল মাটিতে পড়ছে। ঝরে পড়া শিমুলফুলে মালা গেঁথে বিক্রি করছে একদল পথশিশু।

সরজমিনে দেখা গেছে, বৃহৎ এই শিমুলবাগানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরা। মা, বাবা, ভাই-বোন, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে যে যার মতো করে বসন্ত উপভোগ করছেন। ঢাকা থেকে ফারিয়া আক্তার তার বন্ধু শাওনকে নিয়ে শিমুলবাগানে বসন্ত উদযাপনে এসেছেন। শিমুলবাগানে রেখে যেতে চান তাদের ভালোবাসা স্মৃতিচিহ্ন। নেচেগেয়ে হইহুল্লুড় করে কাটাচ্ছেন সময় ।

বিস্মম্ভরপুর উপজেলার পলাশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘুরতে এসেছেন শিমুলবাগানে। বাগানের চারদিক নিরিবিলি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ, ঘোড়ায় চড়ে সীমান্তঘেঁষা নদী-পাহাড় দেখে খুবই মুগ্ধ। গান, কবিতা আবৃত্তি, খেলাধুলা করে সময় কাটাচ্ছেন তারা।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থেকে স্বামী-স্ত্রী এসেছেন তাদের একমাত্র মেয়েকে শিমুলের ফুল দিয়ে সাজাবেন বলে। মেয়ের ইচ্ছে পূরণ হওয়ায় খুবই আনন্দিত তারা।

সুনামগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু বলেন, এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত নির্মল। একদিকে যাদুকাটা নদী, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ, বারেকের টিলা সৌন্দর্যে মিলেমিশে পরিপূর্ণ শিমুলবাগান ।

শিমুলবনের কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান টাঙ্গুয়ার হাওর, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ লেক, ট্যাকেরঘাট খনি প্রকল্প, বড়গোফটিলা, যাদুকাটা নদীটি ও মেঘালয় পাহাড় সহজে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সারা বছরই লোক সমাগম লেগেই থাকে পর্যটনসমৃদ্ধ তাহিরপুর শিমুলবাগান

শিমুলবাগানের ক্যান্টিনের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দৃষ্টিনন্দন হয়েছে শিমুলবন। পর্যটনপ্রেমীদের উপস্থিতিও বেড়েছে দ্বিগুণ।

শিমুলবাগানের প্রতিষ্ঠাতা হাজি জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন বলেন, তার বাবা বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ১৯৯৮ সালে নিজের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শতক জমি বেছে নেন শিমুলবাগান করবেন বলে। সেই জমিতে তিনি প্রায় ৩ হাজার শিমুল গাছ লাগান । দিন দিন বেড়ে ওঠা শিমুলগাছগুলো আজ রূপ নিয়েছে শিমুলবাগানে।

তিনি আরও বলেন, এখানকার লোকজন কিংবা প্রকৃতিপ্রেমীরা তাদের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এখন শিমুলবাগানে করেন। যেভাবে আসবেন—ঢাকা সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কল্যাণপুর থেকে প্রতিরাতে ছেড়ে আসা এনা, হানিফ, মামুন, শ্যামলী, ইউনিক, আল মোবারাকা বাস দিয়ে ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা টাকায় নন এসি গাড়ি দিয়ে সুনামগঞ্জ আব্দু জহুর সেতুতে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি-প্রতি ৬০০ টাকা অথবা এক জন করে এলে ১২০ টাকা, দুজনে মিলে একটি বাইক ৩০০ টাকায় সোজা চলে আসবেন যাদুকাটা নদীর পাড়ে । যাদুকা নদীর খেয়া পার হয়েই পৌঁছে যাবেন শিমুলবাগান।