কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী রুটে নদের নাব্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে পড়া ফেরি চলাচল তিন মাসেও চালু হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্রহ্মপুত্র নদে পানির গভীরতা কম হওয়ায় ফেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
ওই রুটের যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন মাস ধরে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফেরি বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম জেলার সঙ্গে রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। তাছাড়া নদে জেগে ওঠা চরে আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন নৌযান। এতে এই দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হয় ফেরি সার্ভিস। সেই ফেরিতে নৌপথে ২০ কিলোমিটার পথ অনায়াসে পাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও চালুর এক বছর পর নাব্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে ফেরি চলাচল। তাই বর্তমানে এই রুটে দুটি ফেরি থাকলেও তা বাস্তবে কোনো কাজে আসছে না। তাছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদে জেগে উঠা চরে নৌযানগুলো আটকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা-যান।
রৌমারী থেকে আসা যাত্রী আলম মিয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পানির নাব্যতার সংকট এবং ড্রেজিং না করার কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নদী পাড় হতে হচ্ছে।এতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং সময়ও বেশি লাগছে।
বিআইডব্লিউটিসি মেরিন অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফেরি চলাচলের জন্য ৬-৭ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেখানে ওই পরিমাণ গভীরতা নেই। তাই বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের টেকনিক্যাল টিম এসে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের চ্যানেলটি পরিবর্তন হয় প্রতি বছর ডিসেম্বর-মার্চ মাস পর্যন্ত। এ কারণে ড্রেজিং করে কোনো সুফল না পাওয়ায় ড্রেজিং বন্ধ করা হয়েছে।