‘ইউনিক রোড রয়েলস’ বাসে ডাকাতি ও নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনার পর থেকে মহাসড়কে রাতের যাত্রায় ভয় বেড়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাসে নারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। এ অবস্থায় কমেছে নাইট কোচের টিকিট বিক্রি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘটনার পর ঢাকা-রাজশাহী রুটের ইউনিক রোড রয়েলসের বাসে যাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পরিবহনের নাইট কোচের বাসগুলোতেও। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি আতঙ্কে রাতে ওই রুটে রাতে যাত্রা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
রাজশাহীর একটি বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল বলেন, ‘ওই রাতের ঘটনা ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে আমাদের বাসের যাত্রী কমেছে।’
ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলরত অন্যতম জনপ্রিয় পরিবহন কোম্পানি গ্রামীণ ট্রাভেলস। প্রতিষ্ঠানটির বাসের রাজশাহী কাউন্টারের মাস্টার আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাসে ডাকাতির ঘটনার পর নারীরা একটু উদ্বিগ্ন বলে মনে হয়েছে। কেউ কেউ বাসে উঠার আগে নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। আমাদের নিরাপত্তা বলতে তো নারীর পাশে নারীর সিট দেওয়া, এটুকু আমরা করে যাচ্ছি। এটা আগে থেকেই করি।’
সম্প্রতি সময়ে রাজশাহী বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র দেখা গেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর শিরোইলে একটি বাস কাউন্টারে কথা হয় গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক সেলিনা খাতুনের সঙ্গে। সেলিনা বলেন, ‘খবরটা দেখার পর থেকেই ভয় লাগছে। রাতে যাবোই না ভেবেছিলাম। কিন্তু সুপারভাইজার কল দিচ্ছে। কালই কাজে যোগ দিতে হবে। বাধ্য হয়ে রাতেই যাওয়া লাগছে।’
বাস স্টেশনে আরেক যাত্রী তানিশা আক্তার বলেন, যে অবস্থা এখন দেখলাম, জরুরি না হলে রাতে বাসে যেতাম না। ট্রেনের টিকিটের চেষ্টা করলাম, হলো না। ফলে বাধ্য হয়ে বাসেই যেতে হচ্ছে। রাস্তাঘাটে কপালে কী অপেক্ষা করছে কে জানে।
রাজকীয় পরিবহনের যাত্রী কুরবান আলী বলেন, ‘আমরা তো ভালো বাসে অনেক টাকা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে পারি না। ২৫০-৩০০ টাকায় লোকাল বাসে যাতায়াত করি। এই বাসেই ডাকাতি হয়েছে। এ রকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য রাস্তায় পুলিশের নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা উচিত।’
হাইওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘লোকাল বাসে ডাকাতি হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। আগে বাস ছাড়ার আগে যাত্রীদের ভিডিও করা হতো। সেটা মাঝে বন্ধ হয়েছিল। এখন ভিডিও চালু করা হয়েছে। আমরা নিজেরাই বাস ছাড়ার আগে এবং পথের বিভিন্ন স্থানে এটা শুরু করেছি। পাশাপাশি বাসে সিসি ক্যামেরা চালু রাখা যায় কি না, যেটা কাউন্টার থেকেই সরাসরি দেখা যাবে- এই বিষয়টি নিয়েও আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে বাস মালিকদেরও সহযোগিতা দরকার।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ইউনিক রোড রয়েলসের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে চলন্ত বাসে ডাকাতি শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতি শেষে একই জায়গায় বাসটি ঘুরিয়ে ভোর ৪টার দিকে ডাকাতরা নেমে যায়। তার আগে বাসের সবযাত্রীর সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। বাসটিতে ৬৩ জন যাত্রীর মধ্যে ৮—১০ জন নারী ছিলেন। ডাকাতদলের তল্লাশির সময় নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।