আজ থেকে মঞ্চে ‘আত্মজয়’

আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত নতুন নাটক ‘আত্মজয়’। শিল্পকলার মঞ্চে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের চতুর্থ প্রযোজনা আজ ২৭ ও আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এই নাটকের দুইটি প্রদর্শনী হবে।
 
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সামাজিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, শিক্ষা ও পেশাগত ব্যর্থতা, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক মতানৈক্য- এসব কারণ মানসিক চাপকে তীব্রতর করে তোলে। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব, যদি আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়াই এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করি। এ বার্তাই তুলে ধরেছে ‘আত্মজ’' নাটকটি। 

থিয়েটারের শক্তিশালী মাধ্যমকে ব্যবহার করে এটি যুবসমাজের মধ্যে আশার আলো জাগাতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং জীবনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্দেশক ও কলাকুশলীরা।
 
‘আত্মজয়’ নাটকটি রচনা করেছেন মোমেনা চৌধুরী। নির্দেশনায় রয়েছেন শামীম সাগর। অভিনয় করেছেন- মোমেনা চৌধুরী, তাহমিনা সুলতানা মৌ, মুনিরা অবনী, রাফিউল রকি, তানভীর সানি প্রমুখ। আলোক পরিকল্পনায় ঠাণ্ডু রায়হান, মঞ্চ পরিকল্পনায় প্রাণ রায়। সংগীত পরিকল্পনায় নির্ঝর চৌধুরী, পোশাক পরিকল্পনায় সামিউন জাহান দোলা, কোরিওগ্রাফিতে তাহমিনা সুলতানা মৌ, পোস্টার পরিকল্পনায় সাকিল সিদ্ধার্থ এবং শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন শাহনেওয়াজ কাকলী।

‘আত্মজয়’ নাটকের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত 

নাটকটির গল্প দ্বীপ ও মমতাজ নামে দুটি প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তারা জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি নির্জন স্থানে যখন তারা নিজেদের জীবনের ইতি টানার জন্য প্রস্তুত, তখন এক রহস্যময় ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। এই ব্যক্তির উপস্থিতিতে দ্বীপ ও মমতাজ তাদের জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট ও হতাশার কথা শেয়ার করে। ধীরে ধীরে তারা উপলব্ধি করে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান এবং প্রতিটি সংকটকেই জয় করা সম্ভব যদি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা যায়। 

নাট্যকার ও অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী নাটকটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘থিয়েটার আমার কাছে শুধুই বিনোদন নয়, এটি সমাজের দর্পণ, ভাবনার খোরাক, এবং পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। আমি সবসময় সমাজের সমসাময়িক এবং জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজে। এর অন্তর্গত বিষয় খুঁজতেই ‘আত্মজয়’ রচনার প্রয়াস। নাটকের বার্তা হলো- অন্ধকার যত গভীরই হোক, আশার আলো সবসময় থাকে। এই নাটকের রহস্যময় চরিত্রটিও দর্শকের মনে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির প্রয়াস চালায়, যেখানে আত্মহত্যার বিপরীতে আত্মজয়কে তুলে ধরা হয়েছে।’
 
নির্দেশক শামীম সাগর বলেন, ‘আত্মহত্যাপ্রবণতা একটি জটিল সামাজিক ও মানসিক বিষয়, যা বিভিন্ন সমাজ ও দর্শনে ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়েছে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মতে, এটি একটি সাময়িক সংকট, যা প্রতিরোধযোগ্য। সাংস্কৃতিক মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করে আমরা এ ধরনের সংকট মোকাবিলার পথ দেখাতে পারি, এবং সেই চেষ্টাই রয়েছে আত্মজয়-এ।’

নাটকটি দর্শকদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নাটকসংশ্লিষ্ট সবাই।