ওচালানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দিল পিকেকে

কারাবন্দী নেতা আবদুল্লাহ ওচালানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। শনিবার (১ মার্চ) পিকেকেপন্থী ফিরাত নিউজ এজেন্সিতে (এএনএফ) প্রকাশিত বিবৃতিকে এ ঘোষণা দিয়েছে তারা।

নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীটির এই ঘোষণাকে তুর্কি রাষ্ট্রের সঙ্গে ৪০ বছরের সংঘাত অবসানের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিকেকের নির্বাহী কমিটি ওচালানকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলেছে, শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য নেতার আহ্বান বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করতে আমরা আজ থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছি। আমরা বিষয়বস্তুর সাথে একমত এবং আমরা বলছি, আমরা এটি অনুসরণ করব এবং সেটি বাস্তবায়ন করব। আক্রান্ত না হলে আমাদের কোনো বাহিনী সশস্ত্র পদক্ষেপ নেবে না।

আবদুল্লাহ ওচালান। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে দলটিকে অস্ত্র সমর্পণ, দল বিলুপ্ত করা এবং তুর্কি রাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য একটি ঐতিহাসিক আহ্বান জানান আবদুল্লাহ ওচালান।

পিকেকে বলেছে, তারা আশা করে যে আঙ্কারা ১৯৯৯ সাল থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা ওচালানকে মুক্তি দেবে, যাতে তিনি এই অস্ত্র সমর্পণ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা দরকার।

বিবৃতিতে কবে নাগাদ দলটি ভেঙে দেওয়া হবে, তার সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সী ওচালান ১৯৯৯ সাল থেকে ইস্তাম্বুলের ইমরালি দ্বীপে বন্দী রয়েছেন। কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পিকেকে'র উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।

ওচালানের আহ্বানের একদিন পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই আবেদনকে স্বাগত জানান। তিনি এটিকে শান্তির জন্য 'ঐতিহাসিক সুযোগ' হিসেবে বর্ণনা করেন।

এরদোয়ান বলেন, বিদ্রোহ অবসানের আলোচনায় যাতে 'সফল পরিণতিতে' পৌঁছানো যায়, তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবে।

এরদোয়ান প্রতিশ্রুতি দেন, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রের ঝনঝনানি শেষ হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির জায়গা প্রসারিত হবে।

গ্রেপ্তারের পর ১৯৯৯ সালে ওচালানকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে'কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ১৯৮৪ সাল থেকে দলটি কুর্দিদের জন্য একটি আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। তারা তুরস্কের সাড়ে আট কোটি মানুষের প্রায় ২০ শতাংশ।

১৯৯৯ সালে ওচালানকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। পিকেকের সঙ্গে পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৫ সালে।

শনিবার পিকেকে বলেছে, তারা ওচালান যেমন চেয়েছিল তেমন একটি কংগ্রেস আহ্বান করতে প্রস্তুত। তবে এটি ঘটতে হলে একটি উপযুক্ত সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

কুর্দিদের আরেক নিবাস প্রতিবেশী ইরাকও ওচালানের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে এটি একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এর আগে ইরাকে পিকেকের উপস্থিতি বাগদাদ ও আঙ্কারার মধ্যে বারবার উত্তেজনার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গোষ্ঠীটি ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেখানে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে এবং মাঝে মাঝেই কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে স্থল ও বিমান অভিযান পরিচালনা করে।