দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট চালুর মধ্য দিয়ে দুইটি ইউনিটে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চলে কমে এসেছে লোডশেডিং।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে ৩ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়। ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন এই ইউনিটটি ১৩ দিন পর উৎপাদনে ফিরলো। এতে ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিটের মাধ্যমে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
এর আগে ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি বয়লারের পাইপ লিকেজের কারণে ৩ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। এর একদিন পরেই ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একই ত্রুটি দেখা দেয় ১ নম্বর ইউনিটে। সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ১ নম্বর ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে ২ নম্বর ইউনিট।
১ ও ৩ নম্বর ইউনিট বিকল হওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম। এতে দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে দেখা দেয় লোডশেডিং।
এদিকে কর্তৃপক্ষের চেষ্টায় বিকল হওয়া ১ নম্বর ইউনিটে পাঁচদিন পর ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় (আংশিক) বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম। দুটি ইউনিট থেকে গড়ে ২৫০ মেগাওয়াট ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বিদ্যুৎ উৎপাদন চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেরামত করে পাঁচদিন পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়। একইভাবে ১৩ দিন পর ৩ নম্বর ইউনিটটি আবারও চালু করা হয়েছে। এ দুই ইউনিট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। এতে করে এ অঞ্চলের লোডশেডিং সমস্যা কমে আসবে।