জিআই স্বীকৃতির পর বিক্রি বেড়েছে বগুড়ার দইয়ের

খাদ্য রসিকদের কাছে বগুড়ার দইয়ের সুনাম দেশ জুড়ে। দেশ-বিদেশে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বগুড়ায় দই বিক্রি আরো বেড়েছে। জেলায় বিভিন্ন শোরুমে দই বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বগুড়ার আশপাশের জেলা ছাড়াও বাসযোগে প্রতিদিন যাচ্ছে সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায়। অভিযোগ উঠেছে, দইয়ের কদর বেড়ে যাওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা দইয়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

দইয়ের ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় বাৎসরিক কী পরিমাণ দই উৎপাদিত হয়, তার কোনো সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বগুড়া শহরসহ পুরো জেলায় কমবেশি ছোট-বড় ৪০০টি কারখানায় দৈনিক গড়ে ১৫০-২০০ টনের ওপর দই উৎপাদিত হয়। যা ৫০০টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বগুড়াসহ দেশব্যাপী বিক্রি হয়। উৎসব কিংবা দুই ঈদে দইয়ের চাহিদা দ্বিগুণের বেশি হয়ে থাকে। এখন বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০০ দোকানে একই সঙ্গে বিক্রি হয় টক ও মিষ্টি দইয়ের পাশাপাশি ক্ষীরশা।

ব্যবসায়ী সাইরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি দই বিক্রি হয়। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার দই এবং দইয়ের সঙ্গে ৩০০-৫০০ কোটি টাকার ওপর মিষ্টি বিক্রি হয়। এছাড়া কোটি টাকার ওপর দই রাখার মাটির সরা ও হাঁড়ি বিক্রি হয়ে থাকে। এই হিসাবে বগুড়া জেলায় বছরে দই ও মিষ্টির বাজার ১৮০০ থেকে ২০০০ কোটি টাকার ওপরে।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে জেলায় দৈনিক প্রায় ১৮ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যার বেশির ভাগ দই ও মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বগুড়ার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান এশিয়া সুইট-এর নুরুল বাশার চন্দন বলেন, এশিয়া সুইটসের দই ও মিষ্টির চাহিদা এখন দেশ জুড়ে। এখানে কোনো ‘বাসি’ দই বা মিষ্টি বিক্রি করা হয় না। কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরেই দইয়ের বাজার বেড়েছে।

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হাসান আলী আলাল জানান, গত কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠানে তৈরি দই আমেরিকায় গেছে অন্তত ৭ বার। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৪০ হাজার শরা দই গেছে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে। প্রতিটি এলাকা থেকেই দই আবারও পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি বিধিবিধান আর খাদ্যমান ঠিক রাখার পদ্ধতির অভাবে তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, রপ্তানি আইন শিথিল করার পাশাপাশি খাদ্যমান ঠিক রাখার সময় বাড়ানো গেলে বগুড়ায় তৈরি সুস্বাদু দই রপ্তানি করা যাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ভারত, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কারণ, বগুড়ার সরার দই ২৫ জুন ২০২৩ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) কর্তৃক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বের দরবারে বগুড়ার দইয়ের মর্যাদা বেড়েছে এবং বিক্রিও আগের তুলনায় বেশি।