৫ শতক জমির জন্য অপহরণের পর ভাতিজাকে খুন

চুনারুঘাট উপজেলার পাট্রাশরীফ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ভাতিজা দুলা মিয়াকে (৪৫) অপহরণ করেন চাচা বিজিবি সদস্য (বর্তমান র‌্যাবে কর্মরত) ছাদেক মিয়া। পরে ঢাকায় নিয়ে খুন করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেন। 

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, ৫ শতক জমি নিয়ে পাট্রাশরীফ গ্রামের বিজিবি সদস্য ছাদেক মিয়ার সঙ্গে ভাতিজা দুলা মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। চাচা সাদেকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ জুন ভাড়া করা সাদা পোশাকধারী একদল লোক মাইক্রোবাসে তুলে দুলা মিয়াকে অপহরণ। অপহরণে সহযোগিতা করে সাদেকের ভাগ্নে আফরোজ। পরে ঢাকার হাজারীবাগ সিকদার মেডিক্যালের পেছনে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। 

১৮ জুন মরদেহ উদ্ধার করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবর স্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করে হাজরীবাগ থানা পুলিশ। সেখানে একটি হত্যা মামলা ও দায়ের করা হয়। 

এ দিকে ৩০ জুন ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিজিবি সদস্য সাদেকের ভাগ্নে আফরোজ মিয়াকে (২৭) শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় এক যুবকের মোবাইল ফোনে ধারন করা ছবির সূত্র ধরে গত ১৪ জুলাই ঢাকা থেকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। পরে আফরোজের স্বীকারোক্তিতে ভোলা জেলার লালমোহন থানার মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে মাইক্রোবাস চালক ইউসুফ সরদার (৩২) ও কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার টামনিকোনা পাড়ার লাল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৩৫) ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। 

এরপর ঢাকার জুরাইন কবরস্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে দুলা মিয়ার মরদেহ তোলা হয়। এ ঘটনায় ইউসুফ ও মামুন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরই র‌্যাব সদস্য সাদেক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া গত সোমবার চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের শেখেন্দর আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন (৩১) ও বরিশাল জেলার গৌরনদী এলাকার তাজেম সরদারের ছেলে শামীম সরদারকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। বৃহস্পতিবার দুলার লাশ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আলমগীর মিয়া (২৬) নামে এক ইজিবাইক চালককে দুর্বৃত্তরা হত্যা। পরে পরিচয় গোপন করতে লতাপাতা দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে লাশ বিকৃত করে দেয়। আলমগীর বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার লাশটির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

ইত্তেফাক/অনি