ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে রাশিয়া। বুধবার (৫ মার্চ) রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মার্কিন প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মস্কোর সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনালাপের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক তৎপরতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগে ট্রাম্পের প্রশাসনকে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে মস্কো।
ক্রেমলিন বিষয়টি এভাবে নিশ্চিত না করলেও স্পষ্ট করেছে, ইরান এখন এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবে।
দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার অবস্থান হলো - ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক নথির সমস্যাটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি যে, সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ইরান আমাদের মিত্র, আমাদের অংশীদার।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান এমন একটি দেশ যাদের সাথে আমরা ব্যাপক, পারস্পরিক উপকারী ও সম্মানজনক সম্পর্ক বিকাশ করছি এবং রাশিয়া এর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অবগত।
এর আগে গত মাসে ট্রাম্প ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগ নিয়ে প্রচারণা চালান। সেই সঙ্গে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টাও রয়েছে। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অভিপ্রায় অস্বীকার করে আসছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে রাশিয়া। গত জানুয়ারিতে দুই-দেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করে।
ক্রেমলিন এটিও জানিয়েছে, গত মাসে সৌদি আরবে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায়ও ইরানের বিষয়টি উঠে এসেছিল। দিমিত্রি পেসকভ বলেন, 'রিয়াদে বিষয়টি কেবল স্পর্শ করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত নয়।'