ময়মনসিংহ গৌরীপুরে উপজেলায় সংযোগ ছাড়া ও বন্ধ সংযোগে বিটিসিএলের ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলায় মধ্য বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের সংযোগ না থাকলেও তার নামে ১৬ হাজার ৯৪৫ টাকা এবং নয়াপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মিসেস হোসনে আরা খাতুনের টেলিফোন সংযোগটি ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকলেও তার নামে ৩৫ হাজার ৯৫২ টাকার বিলের নোটিস এসেছে।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজিম উদ্দিন ট্রেডার্সে টেলিফোন সংযোগের জন্য ২০১২ সালে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) গৌরীপুর কার্যালয়ের লাইনম্যান মোহাম্মদ আলী সংযোগ খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা নেন। তারপর তিনি আর সংযোগ পাননি। পরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ডাকযোগে বিটিসিএলের ময়মনসিংহের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপকের (রাজস্ব) কার্যালয়ের একটি নোটিস পান। নোটিসে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত টেলিফোন সংযোগ (৫৬৪২৮ নম্বর) ব্যবহারের জন্য তার কাছে বিটিসিএলের বকেয়া রয়েছে ১৬ হাজার ৯৪৫ টাকা। যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
জাহাঙ্গীর বলেন, আবেদনের পর লাইনম্যান মোহাম্মদ আলী সংযোগ খরচ বাবদ তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন। পরে গৌরীপুর কার্যালয়ে অনেকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাননি তিনি। সংযোগ অনুমোদন হলে তা গ্রাহকের প্রতিষ্ঠান বা বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বিটিসিএলের, কিন্তু তারা তা দেয়নি। তা ছাড়া ৫৬৪২৮ নম্বরটিও দেয়নি। কিন্তু এত বছর পর প্রায় ১৭ হাজার টাকা বকেয়া বিল পরিশোধের নোটিস আসে।
হোসনে আরা খাতুন বলেন, ১০ বছর আগে নয়াপাড়া মহল্লার বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন সংযোগটি সচল করতে স্থানীয় বিটিসিএল কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানিয়েছিল, মাটির নিচের ক্যাবল লাইন নষ্ট হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, বরাদ্দ আসলে মেরামত করা হবে। কয়েক বছর অপেক্ষার পর সচল না হওয়ায়, সংযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে যোগাযোগ করা হয় বিটিসিএল কার্যালয়ে, সেখানেও নানা টালবাহানা কর্তৃপক্ষের। এতো বছরেও লাইন মেরামত না হওয়ায় ধরেই নিয়েছিলাম বাসার সংযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিল একসাথে ৩৫ হাজার ৯৫২ টাকার বকেয়া পরিশোধের নোটিস পাঠায় বিটিসিএলের ময়মনসিংহ কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপকের (রাজস্ব) কার্যালয়।
শুধু তিনি নন, গৌরীপুর বিটিসিএলের পুরনো ৪৫০ জন গ্রাহকের একই অবস্থা। বর্তমানে কাগজে-কলমে ৭০জন গ্রাহক থাকলেও বেশিরভাগ সংযোগই অচল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরীপুরের সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইউএনও কার্যালয়, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অফিস, উপজেলা ভূমি কার্যালয়, সরকারি কলেজ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় (বিদ্যুৎ), গৌরীপুর পৌরসভা কার্যালয়ের টেলিফোন সংযোগগুলো অচল রয়েছে।
গৌরীপুর বিটিসিএল কার্যালয়ের লাইনম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেক বছর ধরে মাটির নিচের ক্যাবল লাইন নষ্ট হয়ে আছে। হাতেগোনা কয়েকজন গ্রাহকের সংযোগ সচল থাকলেও বেশির ভাগ অচল। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি, কিন্তু আজও মেরামতের কোন বরাদ্দ আসেনি।
তিনি আরও বলেন, উনার (ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত লাইন দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি টেলিফোন সেট লাগান নাই।
ময়মনসিংহ বিটিসিএল’র ব্যবস্থাপক (টেলিকম) এম এ মুকিত দাবি করেন, গৌরীপুরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বর্তমানে ৭০টির মতো সংযোগ চালু আছে। তাছাড়া বিটিসিএলের সংযোগ একবার কোনো গ্রাহক নিলে, লাইন সচল বা অচল যাই থাকুক, নির্ধারিত মাসিক বিল দিতেই হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে, নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, গৌরীপুরে তিনি এমন কোন আবেদন পাননি।
জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে বলেন, ‘লাইনম্যান বলেছে যে উনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত লাইন দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি টেলিফোন সেট কিনে লাগান নাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাজ্জাদুল হাসান জানান, তার কার্যালয়ের টেলিফোন সংযোগটি দীর্ঘদিন যাবত অচল হয়ে আছে। দীর্ঘবছর যাবত বন্ধ থাকার পরও গ্রাহককে বিল পরিশোধের কেন নোটিস পাঠাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গ কথা বলবেন।