রমজানে স্বল্প-নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিচ্ছে টিসিবির পণ্য

নওগাঁর রাণীনগরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাসিক কর্মসূচির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উর্দ্ধমুখি বাজার দরের যাতাকলে বছর জুড়ে টিসিবি পণ্যে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ম আয়ের খেটে খাওয়া কার্ডধারী পরিবারের মানুষের মাঝে। বিশেষ করে রমজান মাসে দুইবার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো স্বল্পমূল্যে পেয়ে বেজায় খুশি উপজেলার সুবিধাভোগীরা। 

সারা দেশের মতো বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে উপজেলাতেও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে নিয়োজিত ডিলাররা। এই টিসিবি পণ্য নিতে সকল শ্রেণির সুবিধাভোগীদের দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে নারীদের দীর্ঘ লাইন ছিলো চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার বিকালে সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে টিসিবি বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান। এসময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সদস্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৭শত ৪০টি পরিবার এই টিসিবির সুবিধা পাচ্ছে। যার মধ্যে সদর ইউনিয়নের ১৫১৯টি পরিবার, কাশিমপুর ইউনিয়নে ১৩৩৭টি পরিবার, গোনা ইউনিয়নে ১৩১১টি পরিবার, পারইল ইউনিয়নে ১৩৫৬টি পরিবার, বড়গাছা ইউনিয়নে ১৩২২টি পরিবার, কালিগ্রাম ইউনিয়নে ১৩৩৪টি পরিবার, একডালা ইউনিয়নে ১৩২৫টি পরিবার ও মিরাট ইউনিয়নে ১২৩৬টি স্বল্প ও নিম্ম আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো এই সুবিধা পাচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন তারিখে এই পণ্যগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। রমজান মাসে নির্দিষ্ট স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে ভর্তুকি মূল্যে প্রতিটি প্যাকেজ মূল্য ৬৬০ টাকা। প্রতি প্যাকেজে ১৫০ টাকায় ৫ কেজি চাল, ৭০ টাকায় ১ কেজি চিনি, ১২০ টাকায় ২ কেজি ছোলা, ২০০ টাকায় ২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ও ১২০ টাকায় ২ কেজি মশুর ডাল প্রদান করা হচ্ছে। যা একটি পরিবারের জন্য প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণ করবে। কিন্তু রমজান মাসের জন্য আগামী সপ্তাহে একই টিসিবি পণ্য সুবিধাভোগীরা আরেকবার পাবেন। ফলে সুবিধাভোগী প্রতিটি পরিবারকে আর এই রমজান মাসে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে এই পণ্যগুলো কিনতে হবে না। 

সুবিধাভোগী উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের রহমতুল্লাহ, খট্টেশ্বর গ্রামের আব্দুল আলীমসহ অনেকেই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে বলেন, সবকিছুর দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পেলেও আমাদের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বাজারে গিয়ে পরিবারের চাহিদা মাফিক পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তালিকা ছোট করতে করতে আর ছোট করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতে সরকারের এই পণ্যগুলো পেয়ে অনেক উপকার হচ্ছে। বিশেষ করে রমজান মাসে দুইবার এই পণ্যগুলো পেয়ে অনেকটাই হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এমন কর্মসূচি যেন আগামীতেও চালু থাকে সেই দাবী আমাদের।

সদর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক এন্ড সন্সের স্বত্তাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা (বকুল) ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে সরকারের নিয়ম মাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্যদের সার্বিক সহযোগিতায় পণ্যগুলো বিতরণ করছি। মোবাইল অ্যাপসে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করার কারণে একজনের পণ্য অন্যকে প্রদান করার কোন সুযোগ নেই। তাই আমরা স্বচ্ছতার মাধমে কোন প্রকারের অভিযোগ ছাড়াই পণ্যগুলো বিতরণ করে স্বস্তি পাচ্ছি। এছাড়া কাউকে বাদ দিয়ে সেই পণ্যগুলো বাহিরে বিক্রির কোন সুযোগ নেই। টিসিবি বিতরণের সকল তথ্য সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারে সংরক্ষিত হওয়ার কারণে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা চাইলেই সকল তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। তাই টিসিবি বিতরণে কোন অনিয়ম করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আমি নিজেও বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করছি। এছাড়া ট্যাগ কর্মকর্তা ও স্ব স্ব ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে এই পণ্যগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। যেহেতু ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের মাধমে টিসিবি বিতরণ করা হচ্ছে, সেহেতু কোন প্রকারের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তাই টিসিবি বিতরণে ডিলার কিংবা অন্য কারও কোন অনিয়ম করারও সুযোগ নেই। 

তিনি আরও বলেন, টিসিবি বিতরণে কোন অনয়িমের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু মোবাইল অ্যাপসে প্রতি গ্রাহকের তথ্য পূরণ করে টিসিবি পণ্য দিতে হচ্ছে, সেহেতু একটু সময় লাগতে পারে। তাই কোন হট্টগোল না করে ধৈর্য্য সহকারে উপজেলার সুবিধাভোগীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে টিসিবি পণ্য গ্রহণ করে সরকারের গ্রহণ করা ভালো উদ্যোগকে শতভাগ সফল করার প্রতি অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।