যেসব কাজে হজতুল্য সওয়াব হয়

দৈহিক-আর্থিক সামর্থ্য এবং স্থান ও সময়গত সামঞ্জস্য বিবেচনায় বিশ্বজনীন ইবাদত হজ। ‘হজ’ নামে পবিত্র কোরআনে একটি সূরাও রয়েছে। এ ছাড়া মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরাহ্ পূর্ণ কর’ (বাকারা: ১৯৬)। হাদিসে আছে, ‘পানি যেমন ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়, হজও তেমন পাপহীন ও পবিত্র করে দেয়’ (বুখারি)। প্রিয়নবী (স) আরো বলেন ‘...সে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে’ (মুসলিম)।

আরাফাত, মুজ্দালিফা, মিনা প্রভৃতি স্থানে সুশৃঙ্খল কর্ম সম্পাদনের জন্য হজ লাখ জনতার চলমান মহাসমাবেশ। এতে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের অগণন বনী-আদম সমবেত হন, যাদের পরনের কাপড় এক, কামনা এক, মনে-মুখে ধ্বনিত হয় একই ভাষার একই উচ্চারণ— ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক... (উপস্থিত, হে প্রভু আমি উপস্থিত...)।

হজের ফরজ তিনটি— ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ এ জিয়ারত এবং আরাফাতের ময়দানে উপস্থিতি। যিনি মহান আল্লাহ্র ঘরের মেহমান, তাঁর ‘হূদ-কাবা’য় বিশ্ব প্রভুর উপস্থিতি চির জাগ্রত থাকে। তবে দৈহিক-আর্থিক সামর্থ্য সাপেক্ষে মুমিন বান্দার জীবনে একবার হজ করা ফরজ। অন্যদিকে এমন কতোগুলো কাজ রয়েছে যার মাধ্যমে যাদের হজ করার সামর্থ্য নেই তারা এবং যারা হজ করেছেন তারাও সহজে হজের সওয়াব লাভ করতে পারেন। যেমন :

সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ্র স্মরণ :একদা সাহাবিগণ প্রিয়নবীর (স) কাছে আরজ করলেন ‘‘...ধনীরা হজ করেন, আমরা পারি না... তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলব যেটা করলে তোমরা বেশি সওয়াব পাবে? তা হলো ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ো’ (মুসনাদে আহমাদ)।

জামাআতে নামাজ :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে মসজিদে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করল, সে যেন হজ করে আসল’ (তাবারনি)।

ইশরাকের নামাজ :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে জামাআতে ফজর আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করে জিকর করল, এরপর দু’রাকাআত নামাজ পড়ল, সে তো হজ ও উমরাহ্র সওয়াব নিয়ে ফিরল’ (তিরমিযি)।

জামাআতের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে ফরজ নামাজের জন্য নিজের ঘর থেকে ওজু করে বের হয়, তার সওয়াব/মর্যাদা ইহরাম বাঁধা হাজিতুল্য’ (আবুদাউদ)।

ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য মসজিদে যাওয়া :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে ভালো কথা শেখা অথবা শেখানোর জন্য মসজিদে গেল, সে পরিপূর্ণ হজ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করবে’ (তাবরানি)।

রমজানে উমরাহ্ :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘রমজানে উমরাহ্ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে’ (বুখারি)।

মসজিদে কুবায় নামাজ :প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করল, সে উমরাহ্র সওয়াব পেল’ (ইবনু মাজাহ্)।

পিতামাতার খিদমত :এক হাদিসে আছে- ‘...যদি তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, উমরাহ্ ইত্যাদির সওয়াব পেয়ে যাবে’।

ঈদের নামাজ :সাহাবায়ে কিরামের বিভিন্ন বর্ণনায় আছে, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজ উমরাহ্তুল্য এবং ঈদুল আজহার নামাজ হজতুল্য’।

জুমআ’র নামাজ :জুমআ’র নামাজকে গরিবের হজও বলা হয়।

অন্যদিকে  হাসান বসরি (রহ) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বারবার হজ করবার চেয়েও উত্তম’।

বস্তুত হজ একটি পুণ্যময় ইবাদত।  কেননা, প্রিয়নবী (স) বলেন, ‘কবুল হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়’ (বুখারি)। সুতরাং আমরা মূল হজ তো করব, হজ ও উমরাহ তুল্য অন্যান্য ইবাদতও বেশি বেশি করব। মহান আল্লাহ্ হাজিসাহেবানকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখুন, সবাইকে হজ করার সামর্থ্য ও সদিচ্ছা দান করুন, আমিন।

lলেখক :সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর