গুজব তৈরি অন্যায় ও নিষিদ্ধ

গুজব ছড়ানো ইসলামে নিষিদ্ধ। নিজ কানে শ্রবণ করে চোখ দিয়ে দেখে ও তথ্য প্রমাণ করার পরই তা অন্যের নিকট প্রকাশ করতে হবে। যেহেতু সকল কিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে আল্ল­াহর নিকট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর-এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে কৈফিয়ত্ তলব করা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাঈল:৩৬)

অন্যের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার পরই বিশ্বাস করতে হয়। অন্যে বলল তথা চিলে কান নিয়ে গেল বলে কানে হাত না দিয়ে চিলের পিছনে দৌড়ালে চলবে না। হতে পারে ভুল তথ্য দিয়ে গুজব তৈরি করে আপনাকে কোনো সমস্যায় ফেলতে চাচ্ছে কেউ। উহুদের যুদ্ধে কাফের মুশরিকগণ ভুল তথ্য দিল, রসুল জীবিত নেই। সাহাবীগণ রসুল (স) এর ভালোবাসায় যুদ্ধ বন্ধ করলেন। তাঁকে খুঁজতে বের হলেন। এসময় কাফেররা অতর্কিত হামলা চালালো। এজন্যই আল­াহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের নিকট বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমারা সেই বার্তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্র্রদায়ের ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত না হতে হয়’। (সূরা হুজরাত-৬)

মিথ্যা তথ্য দ্বারা গুজব তৈরি করে কোনো রকমের অরাজকতা সৃষ্টি করা অন্যায়। ইসলামে মিথ্যাকে কবিরা গুনাহ বলা হয়েছে। রাসুল (স) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের কবিরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? কথাটি তিনি তিনবার বললেন। সাহাবীরা বলেন হ্যাঁ, বলুন। অবশেষে তিনি বলেন, ‘আল্ল­াহর সাথে কাউকে শরীক করা, পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া। এরপর রাসুল (স) হেলান থেকে সোজা হয়ে বসে বললেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা।’ (বুখারী)

আজ মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব তৈরি করে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যও গুজব তৈরি করা হচ্ছে। কোনো সেতুর জন্য শিশুর জীবন লাগবে বলেও সামাজিক মাধ্যমে ভয়াবহ গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রাসুল (স) হজরত মুয়াজকে (রা) বলেন, ‘হে মুয়াজ তুমি সত্য বলতেই থাক। যদিও তা তিক্ত হয়’। ‘ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শেয়ার করুন, লাইক দিন, কমেন্ট না করলে আপনি মুসলমান নন’ ইত্যাদি লিখেও ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে অহরহ। মোটকথা, আমাদের উচিত সর্বদা সত্য তথ্য দেওয়া ও সত্য কথা বলা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ আল্লাাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।’ ( সূরা আহজাব:৭০)

lলেখক : খতিব ও ইসলামি গবেষক