প্রথমদিকে বাংলাদেশে ফেসবুক বিনোদন ও পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হলেও এখন তা বহুমাত্রিক কারণে ব্যবহার হচ্ছে। অনলাইন ব্যবসার প্রসার, সৃজনশীল কাজ নেটিজেনদের মধ্যে ছড়ানো থেকে দেশের প্রতিদিনকার খবর মুহূর্তের মধ্যে এখন মানুষের কাছে পৌঁছায়। ইতিবাচক দিক থেকে বিশ্লেষণ করতে গেলে ফেসবুক মার্কেটিং ব্যবহার করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক খাতে ভূমিকা রাখছে। তবে ফুলের বিপরীতে রয়েছে কাঁটা। এই প্রবাদকে এড়িয়ে যেতে পারেনি ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। নিত্য নতুন খবরের সত্যমিথ্যার মিশ্রণে শোরগোল পুরো ফেসবুক দুনিয়া।
মেটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের বেশির ভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী হলো পুরুষ, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ। যাদের মধ্যে ১৮-২৪ বছর বয়সি ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি; অর্থাত্ ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটি বৃহত্ অংশ হলো তরুণ প্রজন্ম। তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির প্রত্যাশাও তাই ব্যাপক। কিন্তু ফেসবুক তরুণ প্রজন্মসহ দেশের সাধারণত মানুষদের কাছে স্বচ্ছ একটি গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাবে বিভ্রান্ত গোটা দেশবাসী। অতঃপর সৃষ্টি হচ্ছে আমজনতার মধ্যে বিভেদ। প্রতিদিনের বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট, পুরোনো ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করে একাধিক চক্র গোপনে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গুজব ছড়াতে। নিউজফিডে প্রতিটি রিফ্রেশে পাওয়া যাচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।
একটি অসত্য পোস্টকে কেন্দ্র করে হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে সাধারণ মানুষের ভেতর বিভেদ সৃষ্টি। শুরু হয় মতপার্থক্যে এবং একে অন্যের ওপর দোষারোপ। যা বাস্তব জীবনেও ফেলে যায় ভয়ংকর প্রভাব। ফলস্বরূপ দিন অথবা রাতে যে কোনো সময়ে অবরোধ করা হয় সড়ক। ভোগান্তিতে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকা গাড়ি চালক ও সাধারণ জনগণ। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এ যেন কোনো অঘোষিত অপরাধের শাস্তি। এরই মধ্যে আরেকটি অংশ দেখা যায় বানোয়াট, অসত্য ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে শেয়ার করে ভাইরাল হওয়ার নেশা। অল্প সময়ে তৈরি হয় মিলিয়ন ভিউজ। আয় হয় ফেসবুক থেকে অর্থ। এভাবেই চরিতার্থ হয় তাদের ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য।
এই অরাজকতা ঠেকাতে যেখানে তরুণ প্রজন্ম হতে পারত এক বিশাল ঢাল। সেখানে তাদের তত্ক্ষণাত্ বিচক্ষণতার ঘাটতির কারণে গুজবসহ বানোয়াট তথ্য নিমিষেই ছড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও পরবর্তীকালে একাংশ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সঠিক তথ্য প্রকাশ পায়। তবে সত্য প্রকাশের এই বিরতির সময়ে তুমুল বিপাকে পড়ে আমজনতা। চোখের সামনে দেখা ঘটনাগুলোর সত্যমিথ্যার সংমিশ্রণ আলাদা করে জাতিকে বিপথে চালনা করা নেট দুনিয়াসহ বাস্তব জীবনে বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর অবস্থান দেখতে চায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। নিউজফিডে কোনো খবর দেখা মাত্রই প্রথম কাজ হওয়া উচিত সত্যতা যাচাই। নির্ভরযোগ্য উত্সকে খুঁজে বের করা। একপাক্ষিক চিন্তাকে লালন না করে সামগ্রিক বিষয়কে যাচাই-বাছাই করে একটি স্বাস্থ্যকর ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবেও ফেসবুকের ব্যবহার বাড়াতে পারে নতুন প্রজন্ম।
লেখক :শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ