বরেণ্য রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ। তার জন্ম ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর। বাবা সলিমউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। সাদি মহম্মদ রবীন্দ্রসংগীতের ওপর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্বভারতীতে শান্তিদেব ঘোষ ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখেন তিনি।
২০০৭ সালে ‘আমাকে খুঁজে পাবে ভোরের শিশিরে’ অ্যালবামের মাধ্যমে সাদি মহম্মদ সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৯ সালে তার ‘শ্রাবণ আকাশে’ ও ২০১২ সালে তার ‘সার্থক জনম আমার’ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে চ্যানেল আই। ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি তাকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে।
সাদি মহম্মদের বেড়ে ওঠা ছিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে। মুক্তিযোদ্ধা বাবা সলিম উল্লাহকে কিশোর বয়সেই হারিয়েছিলেন তিনি। একাত্তরের ২৩ মার্চ বাড়ির ছাদে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন সলিম উল্লাহ। ওই পতাকা এঁকেছিলেন তার সেজ ছেলে সাদি মহম্মদ। এই ঘটনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের কালো তালিকায় চলে যায় ওই বাড়ি। একাত্তরের ২৬ মার্চে তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আর সাদির বাবা সলিম উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাই যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন দেশে সলিম উল্লাহর নাম অনুসারে মোহাম্মদপুরের সলিম উল্লাহ রোডের নাম রাখা হয়েছে।
স্বাধীনতার পর পরিবারের ইচ্ছা মেনে নিয়ে সাদি মহম্মদ ভর্তি হলেন বুয়েটে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং তাকে টানেনি। বুয়েটে পড়ার সময়ই ১৯৭৫ সালে বিশ্বভারতী থেকে স্কলারশিপ পেলেন। বিশ্বভারতীতে শান্তিদেব ঘোষ ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গানের দীক্ষা নেন। রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে তারপর দেশে ফেরেন।
রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক গানসহ সাদি মহম্মদের মোট অ্যালবামের সংখ্যা ৬০টিরও বেশি। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রবিরাগ’-এর পরিচালক ছিলেন এই শিল্পী। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই সাদি মহম্মদের মা জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ মারা যান। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই একটা ট্রমার মধ্যে চলে যান এই শিল্পী। মা হারানোর বেদনা তিনি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। এ বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ১৩ মার্চ মারা যান।
২০২৪ সালের আজকের দিনে সন্ধ্যার পর সাদি মহম্মদের ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলি মহম্মদ হঠাৎ ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। শেষ কয়েক বছর নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন এ শিল্পী। তার মৃত্যুতে অনেকেই বলেছেন মায়ের চলে যাওয়া মেনে নিতে না পেরে তার এই অকাল প্রস্থান। অনেকে বলেছেন অভিমানে থেকেই তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।