ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতে আফ্রিকায় যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার আওতায় গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে পূর্ব আফ্রিকার তিনটি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিমূলক পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে আরব বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নিয়ে বিশ্বপ্যাপী বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মাঝেই নতুন করে সুদান, সোমালিয়া এবং সোমালিল্যান্ড নামে পরিচিত সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এলো।

আরব নিউউ জানিয়েছে, আফ্রিকার এই তিনটি স্থানই দরিদ্র এবং কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতায় জর্জরিত। সুদানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে সোমালিল্যান্ড এবং সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে, তারা কোনো যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা মতে, গাজার ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে স্থায়ীভাবে অন্যত্র পাঠানো হবে। তিনি প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্র এই ভূখণ্ডের মালিকানা নেবে, একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে এবং এটিকে একটি 'রিয়েল এস্টেট প্রকল্প' হিসেবে গড়ে তুলবে।

ফিলিস্তিনিদের গণহারে স্থানান্তরের ধারণাটি একসময় ইসরায়েলের অতি-জাতীয়তাবাদীদের কল্পনা হিসেবে বিবেচিত হত। কিন্তু গত মাসে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ট্রাম্প এই ধারণাটি উপস্থাপন করার পর থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে 'সাহসী পরিকল্পনা' হিসেবে প্রশংসা করেন।

গাজার ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আরব দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং একটি নিজেদের মতো করে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। আরবদের পরিকল্পনার অধীনে ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতেই রাখা হবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে চলে যেতে বাধ্য করা বা চাপ দেওয়া একটি সম্ভাব্য 'যুদ্ধাপরাধ' হতে পারে। তবুও হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্প তার দৃষ্টিভঙ্গিতে অটল।