এমন কিছু আগে দেখেননি সিমিওনে, ‘অদ্ভুত’ বললেন আনচেলত্তি

রোমাঞ্চে ঠাঁসা ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর যখন পেনাল্টি শ্যুটআউটে ম্যাচ গড়ায়, তখন দিয়েগো সিমিওনের চেয়ে কার্লো আনচেলত্তিকে বেশি হতাশ দেখাচ্ছিল। কারণ, পেনাল্টি শ্যুটআউটের আগেই খেলা শেষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে মেট্রোপলিটানো তখন উত্তাল। প্রায় ৭০ হাজার সমর্থকদের গলা ফাটানো চিৎকারে কম্পিত হয়ে উঠেছিল গোটা মাদ্রিদ শহর। তখন সবার মাথায় শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল শেষ হাসি হাসবে কে রিয়াল নাকি অ্যাতলেটিকো? 

এমন প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে রুডিগারের নেওয়া পেনাল্টি শর্ট পর্যন্ত। এই জার্মান ডিফেন্ডার জালে বল জড়ানোর পর পুরো মেট্রোপলিটানো হয়ে পড়ে নিস্তব্ধ। অ্যাতলেটিকো সমর্থকদের চোখ বেয়ে পড়তে থাকে বেদনার অশ্রু। ২-২ (২-৪) গোলের জয় নিয়ে অন্যপাশে উদযাপনে মাতেন এমবাপ্পে-বেলিংহাম-ভিনিসিয়ুসরা। 

তবে ম্যাচটির গল্পটা ভিন্ন হতে পারতো। যদি কিনা টাইব্রেকারে থেকে হুলিয়ান আলভারেজের পাওয়া গোলটি বাতিল না হতো। মূলত, শর্ট নেওয়ার সময় বল ডাবল টাচ লাগার কারণে ভিআরে বাতিল করা হয়েছে গোলটি। যদিও আলভারেজের দাবি, তার পায়ে বল ডাবল টাচ লাগেনি। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের জানান, এমন কিছু আগে কখনো দেখেননি তিনি। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, যারা যারা দেখেছেন আলভারেজ ডাবল টাচ করছে, তারা হাত তুলুন। তখন কোনো সাংবাদিকই হাত তোলেননি। 

যদিও সরাসরি কোনো বিতর্কে যেতে চাননি সিমিওনে। যার কারণে এই আর্জেন্টাইন বলেছেন, রেফারি যেহেতু সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তাহলে তারা ঠিক ছিলেন। তবে কিছু কিছু ভিডিও দেখে মনে হচ্ছিল, বলে আলভারেজের দুই পা বলে স্পর্শ করেছে। আবারও কিছু ভিডিওতে দেখা যায় বলে ডাবল টাচ লাগেনি। যার কারণে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। 

অন্যদিকে এমন কাণ্ডকে অদ্ভুত বলে অ্যাখা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ বস কার্লো আচলেত্তি। তিনি বলেন, 'ফুটবলে এটা খুবই অদ্ভুত। সে (আলভারেজ) ডান পায়ে শর্ট নেওয়ার সময় তার বাম পায়ে বলে স্পর্শ করে। এটি একটি লটারির মতো।' বুধবার রাতে অন্য ম্যাচগুলোতে জয় পেয়েছে আর্সেনাল, অ্যাস্টন ভিলা ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। আগামী মাসের ৯ এবং ১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কেয়ার্টার ফাইনালের প্রথম এবং দ্বিতীয় লেগ।