চাঁদপুরের এক গ্রামে বসবাস করে পাঁচ সদস্যের এক পরিবার। আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটত তাদের। স্বচ্ছলভাবে জীবনযাবনের প্রত্যাশা তাদের কাছে ছিল স্বপ্নেরও অতীত। একদিন সুযোগ আসে বাড়ির বড় ছেলে রাসেলের সৌদি পাড়ি দেওয়ার। ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সবকিছু। বিদেশের মাটিতে রাসেলের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কারণেই তার পরিবার দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়—তার পরিবারের সদস্যরাও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপনের সুযোগ পায়।
আর রাসেল দূর প্রবাস থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। বিশেষ করে বদলে যাওয়া সময়ে তাদের নতুন বাড়ি ও গ্রাম ঘুরে দেখতে চাইতেন তিনি। প্রায় তিনি তার ছোট ভাই সোহেলকে বলতেন, “ভাই, তুমি আমাকে আমাদের বাড়ি ও গ্রাম ঘুরে দেখাও”। ছোট ভাই সোহেল ইমো এইচডি কলের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন দিক ঘুরিয়ে দেখাতেন। হাজারো মাইল দূরে থাকা রাসেল মাঝে মধ্যেই আনন্দে কেঁদে ফেলতেন।
এমন লাখো রাসেলই বদলে দিচ্ছে দেশ, ভূমিকা রাখছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে। আর তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগে রাখছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ভিডিও কলের মাধ্যমে। দূরত্ব যতই হোক, ইন্টারনেট সংযোগ ও এইচডি ভিডিও কল সুবিধার মাধ্যমে তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে যুক্ত থাকছেন পরিবারের সঙ্গে।
কেবল বাড়িই নয়, নিজের কঠোর পরিশ্রমের টাকায় রাসেল তার পরিবারের ভবিষ্যতও নিরাপদ করেছে। তার পাঠানো অর্থের কারণে তার ছোট ভাইয়েরা পড়াশোনা করতে পারছেন। সৌদি থেকে পাঠানো রেমিটেন্স তার পরিবারের রমজান ও ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছে। এছাড়া ভিডিও কলে পরিবারের এমন নানা মুহূর্তে সবার কাছাকাছি থাকতে পারছেন তিনি। ফলে পরিবার ছাড়া প্রবাসে থাকার কষ্ট অনেকখানি কমে যাচ্ছে তার।
রাসেলের জীবন যেন আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের গল্প। বিদেশে যাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে, প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রবাসী আয় বেড়ে ১.৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার একটি বড় অংশ জাকাত, সদকা, ইফতার এবং ঈদ উদযাপনে ব্যয় হয়। ২০২৪ সালেও ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই আর্থিক প্রবাহ গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে—স্থানীয় ব্যবসাকে অর্থায়ন করছে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি, রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।