ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় কাজ ফেলে দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। এ কারণে গত সাত মাস ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর অভাবে উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, এই কাজগুলো জেলার। তাই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। তিনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন সাংবাদিকদের।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে এলজিইডির বাস্তবায়নে রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের এই ব্রিজের জন্য ২ কোটি, ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স মোস্তফা কামাল কাজটি পায়। তবে ঐ ঠিকাদার নিজে কাজ না করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ ও মো. মাসুদ হাবিব নামের এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব (সাব কনট্রাক্ট) দেন। তবে সরকার পতনের পর মাসুদ হাবিব গা-ঢাকা দেন। ব্রিজের কাজটি শুরু করেন ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ কাজটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতি ও উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে কাজ শেষ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শৌলমারী ইউনিয়নের বড়ইকান্দি বাজারের পূর্ব দিকে বোয়ালমারী পাকা রাস্তার মাথায় খালের ওপর ৩৮ মিটার চেইনেজ দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও শেষ হয়নি এ ব্রিজের কাজ। স্থানীয় মালেক, আবুল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি এবং প্রকৌশলী ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, 'আমরা স্থানীয় এলাকার মানুষ গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন কোমলমতি স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ বৃদ্ধ মানুষেরা। শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে একধিক বার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিজের সাবকন্ট্রাক্টর মাসুদ হাবিবের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'খালে পানি থাকায় ও নানা সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ রেখেছি। তবে এখন পানি কমেছে দুই-এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করব।' ঠিকাদার মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।