গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল হত্যা ও ভাংচুর, লুটপাট, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ মামলার মূল আসামী সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে।
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর গির্জার সামনে আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদ, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা ও এএলআরডি যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, অখজউ এর প্রতিনিধি আফজাল হোসেন, বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাড. কুশালাশীষ চক্রবর্তী, এ্যাড. মোহাম্মাদ আলী প্রামানিক, মানবাধিকার কর্মী কাজী আব্দুল খালেক, আদিবাসী নেতা প্রিসিলা মুরমু, মাইকেল মার্ডি, বৃটিশ সরেন, বার্নাবাস টুডু, সুবাস মুরমু, কৃষ্ণ মুরমু প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. ফারুক কবির ও তৃষ্ণা মুরমু।
আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, বলেন, মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রমকে গুলি করে হত্যার পর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে তত্কালীন স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদসহ ৩৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু বিচার হওয়া তো দূরের কথা, মামলার আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বুলবুল আকন্দসহ অন্য আসামীদের কেউই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হননি।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামারের সাঁওতালদের বসবাস করা ১হাজার ৮৪২একর পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার, গুলিবিদ্ধ এবং গুরুতর আহত সাঁওতালদের ক্ষতিপূরণের দাবী জানান।
সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, শুধু সাঁওতালদের বসতি নয়। সম্প্রতি উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজাবিরাট এলাকায় আদিবাসী সাঁওতালদের সমাধিস্থল রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দখল করেছেন। অবিলম্বে ওই সমাধিস্থল সাঁওতালদের ফেরত দিতে হবে।
এর আগে সকালে সাঁওতাল পল্লী জয়পুর গ্রামে সাঁওতাল জনবসতি উচ্ছেদের জায়গায় স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহত মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সবশেষে গুলিবিদ্ধ ও আহত (ক্ষতিগ্রস্ত) সাঁওতালদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ খামারে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হন চারজন সাঁওতাল। তাদের মধ্যে তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ মারা যান। পরে পুলিশ, চিনিকল ও সাবেক এমপি’র কালামের লোকজন বসতি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এইসব ঘটনায় থোমাস হেমব্রম বাদি হয়ে মামলা করেন। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছরেও এই হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি।