যোগাযোগবিচ্ছিন্ন দুই উপজেলা

উলিপুরে পুনর্নির্মাণ হয়নি বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতু

উলিপুরে ৯ বছর আগে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া সেতু দুইটি আজও পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে ৩ ইউনিয়নের ২০ গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানুষ ও যানবাহন চলাচলের জন্য এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলে সেটিও ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় সড়ক থাকলেও সেতুর অভাবে দুই উপজেলার মানুষ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তবকপুর, ধামশ্রেণি ও চিলমারী উপজেলার থানাহাট, বানীগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত পূর্ব অঞ্চলের মানুষের দুই উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার জন্য কুড়িগ্রাম-চিলমারী রোডের চুনিয়ার পাড় থেকে উলিপুর আজমের মোড় পর্যন্ত ৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক ও দুইটি সেতু ২০১৫ সালে নির্মাণ করা হয়। পরের বছর বন্যায় তবকপুর ইউনিয়নের আমতলী সেতু ও চুনিয়ার পাড় সেতু দুইটি ভেঙে যায়।

অটোচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‌‌‌‘সড়কটি পাকা হলে অটো চালিয়ে সংসার চালাতাম। এখন সেই রোজগারে ভাটা পড়েছে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল কাইয়ুম সরকার জানান, চুনিয়ার পাড়, আকন্দ পাড়া, তামাকু পাড়া, কবিরাজ পাড়া, বান্দারঘাট, বানু কিষামত পাড়া, হিন্দুপাড়া, বাজারঘাট, বিষ্ণু বল্লভ, খামার তবকপুর, পাগলার ঘাট, বড়ুয়া তবকপুর, আমতলীসহ ২০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেতুর অভাবে চলাচলের ভোগান্তিতে পড়েছে।

ঐ গ্রামের ফেরিওয়ালা জমসের, জছিজর হক, আলিমুদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমানসহ অনেকে জানান, সড়কটি পাকা হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচলের ভোগান্তিতে পড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্রিজটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানান, আমতলী ও চুনিয়ার পাড়ের ভেঙে যাওয়া সেতু দুইটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।