‘সরকার করছে উন্নয়নের ফাঁপড়বাজী অথচ আড়াই কোটি মানুষ পেটভরে খেতে পায় না’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের হিসেবে বাংলাদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তিন বেলা পেট ভরে খেতে পায় না। গত এক দশকে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। অপরদিকে, এই সরকার বলছে, দেশের উন্নয়নের জোয়ার বইছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে আসছেন, ‘দেশে কোনো হাহাকার নেই। অভুক্ত মানুষ নেই’। কিন্তু বাস্তবে সরকার তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপড়বাজির মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জোর করে ক্ষমতার মসনদ দখল করে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে যৌথভাবে প্রণীত নতুন প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে দুই কোটি ৪২ লাখ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে বাংলাদেশে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। এ দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

সরকার দলীয় মন্ত্রীদের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন,জনগণের টুঁটি চেপে ধরা এই সরকারের চাপাবাজ মন্ত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং ইউরোপের মতো উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী গত বছর বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কানাডার সমান হয়ে যাবে।

এক বছরের মধ্যে স্পেন, থাইল্যান্ডের সমান হয়ে যাবে। দেশে কোনো গরীব নেই। এমনকি এক বছর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সেই সময়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন দেশের দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র, ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে।’

রিজভী বলেন,এই অবৈধ সরকারের গত ১০ বছরে ধনী আরও ধনী, গরীব আরও গরীব হয়েছে দাবি করে বলেন, নজিরবিহীন দলীয়করণ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। জবাবদিহিতার অভাব, অকার্যকর সংসদ দুর্নীতিকে লাগামহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে। শেয়ার মার্কেট লুট, ব্যাংক লুট, দলীয় ব্যক্তিদের জন্য ঋণ সুবিধা ও ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা একনায়ক সরকারের সমর্থক ও তল্পিবাহকদের বা লাগামহীনভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গণলুট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভেতরে ভেতরে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলছে।

তিনি বলেন,ক্ষমতাসীনরা করছে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন, আর বলে বেড়াচ্ছে সেটাই নাকি জনগণের উন্নয়ন। গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মিথ্যা উন্নয়নের প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। জনগণের টাকায় পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশন করমচা আর লেবুর বাম্পার ফলন নিয়ে ব্যস্ত। এদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের ঘরে খাদ্য নাই, অথচ সরকারের লোকজন ১ টাকার কাজ ১০ টাকায় দেখিয়ে ডিজিটাল লুটপাট করে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

আরো পড়ুন: জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবীতে শুরু হয়েছে বিএনপি’র বিভাগীয় মহাসমাবেশ। বিএনপি পর্যায়ক্রমে সবগুলো বিভাগে এই মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা আমাদের আন্দোলনের একটি ধাপ। এই মহাসমাবেশ ঘিরে মুক্তিকামী জনতার মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে পুলিশ প্রশাসন। এটা সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা হাসান জাফির তুহিন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমআর